দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেড স্টার জোন হওয়ায় হাওড়া পুর এলাকায় কঠোর মনোভাব দেখাচ্ছে প্রশাসন। জরুরি নয় এমন সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফে। শহরাঞ্চলে পুলিশি তৎপরতাও চরমে। বিভিন্ন বাজারে মঙ্গলবার থেকে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। জায়গায় জায়গায় ব়্যাফ নামার খবর পাওয়া গেছে মঙ্গলবার রাতে।
হাওড়া পুর এলাকা স্পর্শকাতর হওয়ায় এখানে ওষুধের দোকানগুলিতে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া জ্বর-সর্দির ওষুধ বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তবে এব্যাপারে এখনও কোনও লিখিত নির্দেশ কোথাও নেই। দোকানিরা বলছেন যে থানা থেকে আগে বলা হয়েছিল কেউ জ্বর-সর্দির ওষুধ কিনতে এলে তাঁর নাম ও ফোন নম্বর লিখে রাখতে। এখন বলে দেওয়া হয়েছে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ না দিতে। ফলে অনেক দোকান সাধারণ জ্বর-সর্দির ওষুধ যেমন প্যারাসিটামল ও কাফ সিরাপ পর্যন্ত সরিয়ে ফেলেছে। তার কারণ হিসাবে দোকানিরা জানাচ্ছেন, এক দিকে প্রশাসনের নির্দেশ ও অন্য দিকে স্থানীয় ছেলেদের জবরদস্তি করার আশঙ্কা – এই দুইয়ের জাঁতাকলেই তাঁরা প্রকাশ্যে ওষুধ রাখতে পারছেন না। সাধারণ মানুষ পড়েছেন সমস্যায় কারণ ডাক্তাররা চেম্বারে বসছেনই না এখন।
রেডস্টার জোন হলেও হাওড়ায় এখনও ব়্যাপিড টেস্ট শুরু হয়নি। ডুমুরজলায় কোয়ারান্টাইন সেন্টার থেকে অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার দেওয়ার অভিযোগ উঠছে ক্রমাগত। যদিও এব্যাপারে প্রশাসন কোনও কথা বলতে রাজি হয়নি।
পুলিশের অতি তৎপরতায় বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। সকাল এগারোটার পরে বিভিন্ন বাজারে ঢুকে দোকানিদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। নিয়ম ভেঙে যাঁরা মাস্ক না পরে বেরচ্ছেন তাঁদেরও পুলিশ মারধর করছে। যে সব দোকানি মাস্ক ছাড়া বাজারে বসছেন তাঁদের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার পুলিশ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। লকডাউন শুরুর পর থেকেই হাওড়া শহরের বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে গাছাড়া মনোভাব ছিল। বাজার দোকানে সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই, অনেকে নাক-মুখ না ঢেকেই বেরিয়ে পড়ছেন। এখন পুর এলাকা রেডস্টার জোন হয়ে যাওয়ার পরেও তাঁরা সতর্ক হননি। পুলিশ বারবার বোঝানোর পরেও উদাসীন মনোভাব। বুধবার সকালেও বেশ কয়েকটি চায়ের দোকানের বাইরে জটলা দেখা গেছে। ফলে পুলিশও বাধ্য হয়েই কঠোর মনোভাব দেখাচ্ছে।
বাজারের সময় কমে যাওয়ায় সকালের দিকে রাস্তায় ভিড় দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন দোকানের বাইরেও লাইন পড়ছে। বুধবার সকালে বিভিন্ন জায়গায় রেশন দোকানের বাইকে লম্বা লাইন দেখা গেছে। মিষ্টির দোকান খোলা থাকছে ১২টা পর্যন্ত।
বেশ কয়েকটি বাজার সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ফাঁকা জায়গায়। রামরাজাতলা বাজার এখন বসছে শঙ্করমঠের মাঠে। চ্যাটার্জিহাট থেকে বাজার সরিয়ে বসানো হয়েছে ডুমুরজলা স্টেডিয়ামের রাস্তায়। এই সব জায়গায় পুলিশি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। কালীবাবুর বাজার বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি সংলগ্ন বিভিন্ন রাস্তাও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঘুরপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে লোকজনকে।
পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি না দেওয়া পর্যন্ত হাওড়া পুর এলাকার জরুরি নয় এমন সমস্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে আপাতত বন্ধই থাকছে ব্যাঙ্কের শাখা। এটিএম অবশ্য খোলা রাখা হয়েছে।
কাজিপাড়া থেকে হাওড়া ময়দানের রাস্তা পুরো বন্ধ। নেতাজি সুভাষ রোডের বিভিন্ন অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমসি ঘোষ লেনেও পুলিশি তৎপরতা চোখে পড়েছে। বিভিন্ন গলির মুখ কার্যত সিল করে দেওয়া হয়েছে। হাওড়া পুর এলাকায় বিকেলের দিকে বিক্ষিপ্ত ভাবে কয়েকটি দোকান খুলেছিল। পুলিশ তা বন্ধ করে দেয়। কয়েকটি চায়ের দোকানের জিনিসও পুলিশ ভেঙে দিয়েছে বলে অভিযোগ।
গ্রামীণ হাওড়ার পরিস্থিতি অবশ্য অনেকটাই ভাল। গ্রামীণ হাওড়ায় তিনটি কোয়ারান্টাইন সেন্টারে মোট ২৪০ জন ভর্তি আছেন। প্রথম দিকে কোয়ারান্টাইন সেন্টার নিয়ে নানা অভিযোগ উঠলেও এখন পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক। নতুন করে কোনও অভিযোগ ওঠেনি। সকাল সাতটা থেকে ১১টা পর্যন্ত বাজার বসছে। সময়ের পরে যাতে কোনও বাজার খোলা না থাকে সেব্যাপারে বিভিন্ন জায়গায় উদ্যোগী হয়েছেন এলাকার লোকজনই। ব্যাঙ্কের শাখাগুলিতে যাঁরা যাচ্ছেন তাঁরা যাতে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলেন সেদিকে নজর দিচ্ছে হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ। কোথাও কোনও ভিড় দেখলে পুলিশ দ্রুত তা ফাঁকা করে দিচ্ছে। লকডাউনের নিয়ম ভাঙায় উলুবেড়িয়া থানা এলাকা থেকে মঙ্গলবার পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।