দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিইএসসির অনেক গ্রাহকের কাছেই এমন অঙ্কের বিল এসেছে যা দেখে যেন মাথায় বাজ পড়েছিল তাঁদের। নাগরিক ক্ষোভে ক্রমেই চাপ বাড়ছিল ভিক্টোরিয়া হাউসের উপর। রবিবার রাতেই স্বাস্তির খবর শোনা গিয়েছিল। সোমবার সিইএসসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, যাঁরা এখনও বিল জমা দেননি, তাঁদের বিদ্যুৎ সংযোগ কাটা হবে না।
শোভনদেববাবু জানিয়েছেন, সিইএসসি আধিকারিকরা তাঁকে জানিয়েছেন, জুন মাসের বিল গ্রাহকদের বাড়িতে নতুন করে পাঠানো হবে। গত বছরের জুনে যা বিল এসেছিল বা সাধারণ গড়পড়তা হিসেব করে নতুন বিল তৈরি করা হবে বলেও সিইএসসি জানিয়েছে। বিদ্যুৎমন্ত্রী আরও বলেন, ওরা আমাদের দেখিয়েছে, যেহেতু মিটার রিডিং হয়নি তাই এক সঙ্গে তিন মাসের বিল পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তাতেও দেখা গিয়েছে অনেক টাকা বেশি।
তিনি এও বলেন, লকডাউনে মানুষ বাড়িতে বেশি থাকার কারণে বিদ্যুৎ বেশি খরচ হচ্ছে। একটার জায়গায় চারটে পাখা চলছে। কিন্তু তা হলেও যাঁড় বাড়িতে দু’হাজার টাকা বিল আসে তাঁর বাড়িতে কখনও ৩২ হাজার টাকা বিল আসতে পারে না।
যদিও যাঁরা ইতিমধ্যেই এই বিরাট অঙ্কের বিল মিটিয়ে দিয়েছেন তাঁদের ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে ছাড় মিলবে কিনা সে ব্যাপারে কিছু স্পষ্ট করেনি সিইএসসি। শোভনদেববাবু বলেন, নতুন করে বিল তৈরির কথা সিইএসসি বলেছে। এটা সময় সাপেক্ষ। সেটা করার পর মানুষের কাছে তাঁরা বিল পৌঁছে দিক। মানুষ কী মনে করছেন সেটা দেখেই পরবর্তী আলোচনা হবে। নতুন বিলে রিবেট ও স্ল্যাব বেনফিট দেওয়া হবে বলেও সিইএসসি জানিয়েছে বিদ্যুৎমন্ত্রীকে।
তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে আমার হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজনই ছিল না। কিন্তু যে ভাবে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছিল, আমি দফতরের মন্ত্রী বলে যে ভাবে আমার বাড়িতে লোক ঢুকে পড়ছিল, তাতে আমাকে হস্তক্ষেপ করতেই হয়। শোভনদেববাবুর কথায়, সিইএসসির উপর যথেষ্ট চাপ তৈরি করা হয়েছে। তারা বলেছে, সমস্ত বিভাগকে নিয়ে বসে তারা এর একটা ফয়সালা করবে। আমরা তার জন্য অপেক্ষা করব। তবে বারবার তিনি সাধারণ গ্রাহকদের আশ্বাস্ত করে বলেন, যাঁরা বিল জমা দেননি তাঁদের কোনও অসুবিধার মধ্যে পড়তে হবে না। বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও রিপোর্ট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শোভনদেববাবু।