দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ কয়েক দিন আগেই বীরভূমের শান্তিনিকেতন থেকে গ্রেফতার হয়েছিল চার দুষ্কৃতী। উদ্ধার করা হয়েছিল প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র। তার পর থেকেই জেলার বিভিন্ন নাকা চেকিংয়ে বাড়ানো হয়েছিল নজরদারি। আর তাতেই আটক করা হল বিপুল পরিমাণে বিস্ফোরক ভর্তি একটি গাড়ি। গ্রেফতার করা হয়েছে গাড়ির চালককে।
ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূম জেলার মহম্মদ বাজার থানার জয়পুরে। পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার রাতে মহম্মদ বাজার থানার জয়পুর এলাকায় রাণীগঞ্জ মোড়গ্রাম জাতীয় সড়কের উপর নাকা চেকিং চলছিল পুলিশের। সেই সময় একটি মারুতি ভ্যান দেখে সন্দেহ হয় তাদের। গাড়ির চালকের কথায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তারপরেই গাড়ি সার্চ করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটিতে তল্লাশি করে তারা হতবাক। পিছনের সিট থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩৯ হাজার পিস বিস্ফোরক। প্লাস্টিকের মধ্যে সেগুলি রাখা ছিল। গাড়ির চালক নাকি পুলিশকে জানিয়েছে, রাণীগঞ্জ থেকে ওই বিস্ফোরক রামপুরহাটের পাথর খাদানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। খাদানে বিস্ফোরণের জন্য সেগুলি ব্যবহার করা হত বলেই জানায় সে। কিন্তু কোন পাথর খাদানে যেগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সেই ব্যাপারে কিছু জানাতে পারেনি চালক।
এই ঘটনার পরে গাড়িটিকে আটক করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে গাড়ির চালককে। তাকে আরও জেরা করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কারণ, ওই বিস্ফোরক পাথর খাদানে ব্যবহার করা হত নাকি সেগুলিকে নাশকতার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সেই বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, চালক পাথরের খাদানের কথা বললেও তার কাছে কোনও বৈধ কাগজপত্র ছিল না। ইতিমধ্যেই রামপুরহাটের পাথর খাদানগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। কোনও খাদানে বিস্ফোরণের জন্য বিস্ফোরক নিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ ও তারপর শান্তিনিকেতনের ঘটনার পর থেকে পুলিশি কড়াকড়ি অনেক বেড়ে গিয়েছে। তার জন্যই হয়তো এভাবে গাড়িতে করে রাতের অন্ধকারে বিস্ফোরক পাচার করা হচ্ছিল। এর পিছনে কোনও বড় চক্র থাকতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। গাড়ির চালককে জেরা করছে পুলিশ। গাড়িটিকে আটক করা হয়েছে। কোথা থেকে বিস্ফোরক আনা হচ্ছিল সে ব্যাপারেও খোঁজ খবর শুরু করেছে পুলিশ।