দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই তৃণমূল নেতারা অভিযোগ করছেন, বিজেপি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অপমান করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনসভায় দাঁড়িয়ে বলছেন, “কী দল ভাবুন! রবীন্দ্রনাথের জন্মস্থান পাল্টে দিচ্ছে। যিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্মেছিলেন তাকে পাল্টে দিয়ে বলছে শান্তিনিকেতন!”
বৃহস্পতিবার ছিল রবীন্দ্রনাথের গড়া বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন। তাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভার্চুয়াল সভায় বক্তৃতা দিয়েছেন। সেখানে মোদীর বলা কথা নিয়ে তীব্র সমালোচনায় নামল তৃণমূল।
এদিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর এদিনের ভাষণ আমাকে অবাক করেছে। তিনি রবীন্দ্রনাথের মেজদা সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আগাগোড়া বড়দা বলে গেলেন”।
ব্রাত্যর এহেন কথার পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিজেপিও। রাজ্য বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন? বলেছেন বড় ভাই। হিন্দিতে বয়সে বড়কে বড় ভাই-ই বলা হয়। ব্রাত্যবাবুদের ভারতের সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা নেই। বাঙালি যে ভাবে মেজদা, সেজদা, ন’দা, ফুলদা বলে সম্বোধন করেন সে ভাবে অন্য রাজ্যের মানুষ করেন না। এটাই ভারতের বৈচিত্র্য।”
তা ছাড়া সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রীর নাম জ্ঞানদানন্দিনীদেবীর নাম প্রধানমন্ত্রী ভুল উচ্চারণ করেছেন বলেও সমালোচনা করেছেন ব্রাত্য। তাঁর কথায়, “সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রীর নাম জ্ঞানদানন্দিনী। আর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জ্ঞাননন্দিনী।”
বিজেপির বক্তব্য, তৃণমূল জবরদস্তি এসব বলছে। সমালোচনা করার কিছু না পেয়ে অযথা এসব কথা বলা হচ্ছে। সায়ন্তন আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের লোক যদি উচ্চারণ নিয়ে কথা বলে তাহলে আমাদের হেস্টিংস পার্টি অফিসের পিছনে আস্তাবলের ঘোড়াগুলোও হাসবে। তা ছাড়া তৃণমূল কী তা বাংলার মানুষ গত ১০ বছরে দেখে নিয়েছেন। অনুব্রত থেকে আরাবুল এই তো হচ্ছে তৃণমূল। এ সব শুনে সত্যজিৎ রায় ধরনীও দু’ভাগ হয়ে যাবে।”
বিজেপির তরফে আরও বলা হচ্ছে, তৃণমূল এখন হঠাৎ করে রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছে। সবাই ব্যাগে করে গীতবিতান নিয়ে ঘুরছেন। অথচ তাঁদের নেত্রীই টেলিভিশনে বসে বলেছিলেন, বেলেঘাটায় গান্ধীজি যখন অনশন করছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ফলের রস খাইয়ে তাঁর অনশন ভাঙিয়েছিলেন। কিন্তু ইতিহাস কী? গান্ধীজি বেলেঘাটায় অনশন করেছিলেন ১৯৪৭ সালে। রবীন্দ্রনাথের জীবনাবসান হয় ১৯৪১ সালে। এবার বুঝুন কার কত জ্ঞান!