দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন রাজনীতির চরম পরিহাস!
সে প্রায় এক দশক আগের কথা! ইদানীং মিম বা কার্টুন যেমন হোয়াটসঅ্যাপে ঘোরে, তখনও সে প্রযুক্তি ছিল না। অর্কুট ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে। সে জায়গা নিয়ে নিয়েছে ফেসবুক। বাংলার রাজনীতিতে সেই সময়েই একটা মিম নিয়ে খুব বিতর্ক হয়েছিল।
সত্যজিৎ রায়ের সোনার কেল্লা অবলম্বনে একটা মিম তৈরি করেছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মু্খ্যমন্ত্রী হওয়ার পর দীনেশ ত্রিবেদীকে রেল মন্ত্রী করেছেন। সেই দীনেশ দিদিকে না জানিয়ে রেল বাজেটে ভাড়া বাড়ানো সহ গুচ্ছ সংস্কারের পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন। তাতে রেগে আগুন মুখ্যমন্ত্রী। রেল মন্ত্রী পদ থেকে দীনেশের অপসারণ অনিবার্য হয়ে উঠছে।
ঠিক সেই সময়েই অম্বিকেশ মিমটি প্রকাশ করেছিলেন। তাতে দেখা যাচ্ছিল, তিনটি চরিত্র। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৎকালীন জাহাজ প্রতি মন্ত্রী মুকুল রায় ও রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে বোঝাতে চেয়েই মিম তৈরি করা হয়েছে। তাতে লেখা ছিল, দেখতে পাচ্ছ মুকুল, সোনার কেল্লা!.. মুকুল শুনে বলছেন, দুষ্টু লোক। তার পর মমতা বলছেন, দুষ্টু লোক ভ্যানিশ।
ওই মিমের জন্য অম্বিকেশ মহাপাত্রকে পাড়ায় হেনস্তা করা হয়েছিল। পরে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তা নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল বাংলা তথা গোটা দেশে।
অথচ দেখা গেল, সেই মুকুল রায় আগেই দিদির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে তৃণমূল ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি সর্বভারতীয় বিজেপির এখন সহ সভাপতি।
শুক্রবার দীনেশ ত্রিবেদীও রাজ্যসভায় তৃণমূল সাংসদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দিলেন। মুকুল রায় আকছার বলেন, বাংলায় পুলিশ রাজ চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো মিথ্যাবাদী মুখ্যমন্ত্রী বাংলায় আগে কখনও হয়নি। আর দীনেশ শুক্রবার বলেছেন, তৃণমূলে তাঁর দম বন্ধ হয়ে আসছিল। বাংলায় রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় তাঁর হৃদয় ভারাক্রান্ত।
রাজনীতির মহিমা যেন এখানেই থেমে নেই! যেন টেলিপ্যাথিও নিহিত রয়েছে এতে। দুদিন আগেই বাংলায় এসে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা বলেছিলেন, মমতাদিদি গণতন্ত্রের কথা বলছেন? মনে পড়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরকে জেল খাটিয়েছিলেন!" মানে অম্বিকেশ মহাপাত্র।
শুক্রবারও অনেকের মনে উঁকি দিল তাঁর কথা। অনেকদিন পরে ফের প্রাসঙ্গিক অম্বিকেশ। হয়তো রাতে ফের খাতা পেন নিয়ে বসে পড়েছেন, অন্য কোনও মিম বানাতে। হয়তো মুচকি হাসছেন অধ্যাপক।