দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাস খানেক আগে এক রবিবার হুগলি সফরে গিয়ে অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো হয়নি রাজ্য বিজেপি-র শীর্ষ নেতাদের। সে বার গুড়াপ রেল মাঠে নির্ধারিত সভা করার ক্ষেত্রে অনুমতিই দেয়নি পুলিশ প্রশাসন। কামারকুণ্ডুতে হুগলির পুলিশ সুপার (গ্রামীণ)-এর অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েই ফিরে আসতে হয়েছিল দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, জয় বন্দ্যোপাধ্যায়দের। কিন্তু এই রবিবার সেই হুগলিতেই হামলার ঘটনা ঘটল বিজেপি নেতাদের উপর। অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে। যদিও তৃণমূলের তরফে এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
এ দিন বিজেপি-র শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার ডাকে জনসভা করতে চণ্ডীতলার মশাটে গিয়েছিলেন রাজ্য বিজেপি-র শীর্ষ নেতারা। সেখান থেকে ফেরার সময় ডানকুনির অদূরে কালীপুর মোড়ের কাছে এই হামলা হয়। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, রাস্তা ঘিরে জনা চল্লিশ দুষ্কৃতী দিলীপ ঘোষের কনভয়ের উপর হামলা চালায়। ভেঙে দেওয়া হয় বিজেপি নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ির কাঁচ। তাঁর মাথায় আঘাত লেগেছে। অভিনেতা জয়কে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে।
[caption id="attachment_53243" align="alignnone" width="1152"]
মশাটে বিজেপি'র সভা[/caption]
প্রসঙ্গত, বিজেপি রাজ্যের যে কটি লোকসভা আসনকে পাখির চোখ করেছে, তার মধ্যে শ্রীরামপুর লোকসভা অন্যতম। তাই রাজ্য নেতারাও ধারাবাহিক কর্মসূচি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এই কেন্দ্রে। গুড়াপে সভা বাতিলের দিনও, এই চণ্ডীতলাতেই শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার উদ্যোগে কর্মীসভা করেছিলেন দিলীপবাবুরা। এ দিন ফের সেখানে কর্মসূচি নিয়েছিল বিজেপি।
ওই সভায় এ দিন দিলীপ ঘোষের বক্তৃতা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। শুক্রবার অণ্ডালের সভায় মিঠুন চক্রবর্তীর সিনেমার সংলাপ একটু পাল্টে দিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেছিলেন, "মারব এখানে, লাশ পড়বে যেখানে সেখানে।" এ দিন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি বলেন, "হাত থাকতে মুখে কেন? আমরা মারামারি চাই না। কিন্তু ওরা (পড়ুন তৃনমূল) যদি মারে আমরা চুপ করে বসে থাকব না। আর হাসপাতালে পাঠিয়ে সময় নষ্ট করবেন না। ওখানেই হিসেব মিটিয়ে দিন। পঞ্চায়েতে কয়েক জায়গায় দেখিয়েছি। আগামী দিনে আরও হবে।" এ দিন দিলীপ ঘোষ ছাড়াও হুগলির ওই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপি-র কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা, মহিলা মোর্চার সভানেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং জয় বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্য নেতাদের উপর হামলার প্রতিবাদে সোমবার কলকাতা-সহ সারা রাজ্যে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে বিজেপি। বিজেপি-র সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, "আগামীকাল মশাল মিছিল হবে জেলায় জেলায়। অবরোধ, মিছিল, বিক্ষোভ দেখাবেন বিজেপি কর্মীরা।"