
শেষ আপডেট: 11 December 2019 09:08
শ্রমিক-কর্মচারীদের ১২ দফা দাবিতে গত ৩০ নভেম্বর পশ্চিম বর্ধমানের চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ কারখানার গেট থেকে শুরু হয়েছিল ‘শ্রমিক লংমার্চ।’ ১২ দিন দুই বর্ধমান, হুগলি এবং হাওড়া জেলার ২৮৩ কিলোমিটার পত অতিক্রম করে এদিন কেন্দ্রীয় সমাবেশের মধ্যে দিয়ে শেষ হয় কর্মসূচি। আর তাতেই উপচে গেল ধর্মতলা। ভিড় দেখে উচ্ছ্বসিত বাম-কংগ্রেস নেতৃত্ব।
গত দু’বছর নাসিক থেকে মুম্বই পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের কৃষক লংমার্চ সাড়া ফেলেছিল গোটা দেশে। আন্দোলনের চাপে কৃষকদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল মহারাষ্ট্রের তৎকালীন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ সরকার। মহারাষ্ট্রের সেই কিষাণ লংমার্চকে মডেল করেই বাংলায় কর্মসূচি নিয়েছিল বামেরা। তাতে যুক্ত হয়েছে কংগ্রেসও।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের বিলগ্নিকরণ, সরকারি সংস্থার বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও ফেডারেশনগুলি। হাওড়া থেকে এদিন মূল লংমার্চ শুরু হয়। অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে হাওড়া ব্রিজ। লং মার্চের সমর্থনে কলকাতার যাদবপুর, শ্যামবাজার, শিয়ালদহ, খিদিরপুর, পার্কসার্কাস-সহ একাধিক জায়গা থেকে মিছিল আসতে থাকে ধর্মতলার দিকে।
বাম-কংগ্রেস ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের বক্তব্য, দেশের সরকার ধর্মীর জিগির তুলে মানুষকে ভুলিয়ে রেখে শ্রমিক-কর্মচারীদের পেটে লাথি মারতে চাইছে। মানুষের দাবিগুলিকে নিয়েই তাই আবার আন্দোলনের পথে নামতে চাইছেন তাঁরা। বাম-কংগ্রেস নেতাদের নিশানায় বাংলার তৃণমূল সরকারও। তাঁদের বক্তব্য, বিজেপিকে বাংলার মাটিতে হাত ধরে জায়গা করে দিয়েছে বাংলার শাসকদলই। লোক দেখানো বিরোধিতা করলেও, আসলে তলায় তলায় তৃণমূল-বিজেপির বোঝাপড়া রয়েছে।
বিজেপি যদিও এই সমাবেশকে ‘ফ্লপ শো’ বলেছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা বলেন, “দুটো দলই বাংলায় সাইনবোর্ডে পরিণত হয়েছে। ফলে ওদের মিটিংয়ে কে এল আর কে না এল তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কোনও মাথা ব্যথা নেই।”