দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজনীতিকে অনেকে বলেন সম্ভাবনার শিল্প। সেই শিল্পকলার মাধ্যমে কত যে নিত্যনতুন ভাঙা-গড়া চলে তার ইয়ত্তা নেই!
লোকসভা ভোটের আগের কথা মনে পড়ে? দিদি কালীঘাটের বাড়িতে ডেকে পাঠালেন তৎকালীন ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিংকে। ডেকে জানিয়ে দিলেন, শোন, ব্যারাকপুরে দীনেশদাকেই প্রার্থী করব। তুই কিন্তু কোনও ঝামেলা করবি না।
তারপরে কী হয়েছিল সবার জানা। অর্জুন বিজেপিতে গেলেন, বিজেপি তাঁকে প্রার্থী করল। জিতলেন অর্জুন, হারলেন দীনেশ।
সেই তিনি দীনেশ ত্রিবেদী শুক্রবার অন্তরাত্মার ডাক উপেক্ষা না করে রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। আর তৎক্ষণাত দাদা দীনেশকে অর্জুন স্বাগত জানালেন বিজেপিতে।
এদিন অর্জুন বলেন, "দীনেশ ত্রিবেদী আমার দাদার মতো। বিজেপিতে এলে খুশি হব। আমি একটা সময় বলেছিলাম, দীনেশজি কাজ করেননি। আসলে ওঁকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। আমার বিরুদ্ধে আসল লড়াইটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করছিল। দীনেশদাকে সামনে রেখে লড়ছিল অন্যরা। আজ দীনেশদা বুঝতে পেরেছেন নিজের ভুল। ওঁর সঙ্গে কথা বলব। এখনই কথা বলব। ওয়েলকাম বলব। চলে আসুন বিজেপিতে।"
শুধু কি অর্জুন! কৈলাস বিজয়বর্গীয়, দিলীপ ঘোষ-- কে নেই স্বাগত জানানোর তালিকায়। কার্যত স্বাগত জানানোর বান ডেকেছে।
এদিন কৈলাস বলেন, "কোনও ভাল, দায়িত্ববান মানুষ, যিনি বাংলার মানুষের সেবা করতে চান, তাঁর তৃণমূলে কোনও সম্মান নেই। আত্মসম্মান রয়েছে, এমন কোনও ব্যক্তি-ই তৃণমূলে থাকতে পারবেন না। বিমানবন্দরে একবার ওঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তখনই উনি বলেছিলেন, পরিস্থিতি খুব খারাপ। কোনও কাজ করতে পারছি না।" তবে বিজেপিতে যোগদান নিয়ে তাঁর সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর এখনও পর্যন্ত কোনও কথা হয়নি বলে জানিয়েছেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়।
অন্যদিকে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেছেন, "ব্যালেন্স নেই মমতার। তাই সবাই দল ছাড়ছেন। মমতা নীরব দর্শকের ভূমিকায় থেকে যাবেন। ভাল লোকেরা বিজেপিতে আসবেন। দীনেশ ত্রিবেদী সজ্জন মানুষ। বিজেপিতে আসতে চাইলে স্বাগত।
ইস্তফার ঘোষণার পরেই টুইটারের কভার থেকে মমতার ছবি সরিয়ে নিয়েছেন প্রাক্তন রেলমন্ত্রী। দিদির জায়গায় বসেছে স্বামী বিবেকানন্দের ছবি। যা দেখে অনেকে বলছেন, ওয়ার্ম শুরু হয়ে গেছে। কয়েকদিনেই হয়তো জল্পনার অবসান ঘটাবেন দীনেশ।