দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রের কৃষি আইন বিলোপের দাবিতে প্রস্তাব গ্রহণের জন্য বৃহস্পতিবার বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছিল। সেই প্রস্তাবের সংশোধন প্রস্তাবে যখন ভোটাভুটি হল, দেখা গেল ১৪৮ জনের অনেক কম তৃণমূল বিধায়ক অংশ নিয়েছেন তাতে।
এদিন তা নিয়েই তৃণমূলকে খোঁচা দিল বাম কংগ্রেস। অধিবেশনের শেষে সাংবাদিক বৈঠক করে বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান বলেন, তৃণমূল নাকি হুইপ জারি করেছিল বিধায়কদের উদ্দেশে। তার পরেও ম্যাজিক নাম্বার তথা ১৪৮ জন বিধায়ককে আনতে পারল না বিধানসভায়।
তাঁর কথায়, একদিনের জন্য অধিবেশন বসেছে। কৃষি আইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু তার পরেও তৃণমূল পারল না। কেন এলেন না বাকি বিধায়করা। কেন অনেক বিধায়ক বিধানসভাতে এসেও ভোটাভুটিতে অংশ নিলেন না? তাঁদের কিছু বলার ক্ষমতাও নেই মুখ্যমন্ত্রীর। বিরোধী দলনেতা বলেন, এই করুণ দশা দেখেই মুখ্যমন্ত্রী নিজেও লজ্জায় বিধানসভায় বেশিক্ষণ থাকেননি। কারণ, আস্থা ভোট হলে আজই হেরে যেত সরকার। একই কথা বলেছেন, বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীও।
তাঁদের এও বক্তব্য, তৃণমূল মুখে কৃষকদের প্রতি দরদ দেখালেও আদতে যে তা ফাঁপা এতেই তা পরিষ্কার। কারণ, কৃষি আইন বিলোপের দাবিতে বিশেষ অধিবেশনেও লজ্জাজনক ভাবে শাসক দলের গরিষ্ঠসংখ্যক বিধায়ক অনুপস্থিত থাকলেন।
বস্তুত মান্নান সাহেবরা অনেক দিন ধরে এই বার্তা দিতে চাইছেন যে তৃণমূলে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। তৃণমূলের সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কই নেই। আস্থা ভোট হলে দেখা যাবে, সরকার সংখ্যালঘু হয়ে গেছে।
তাঁর দাবি ছিল, অন্তত একশ জন তৃণমূল বিধায়ক বিজেপিতে সামিল হবেন। তা যদিও এখনও হয়নি। আগামী ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি ফের দুদিনের সফরে রাজ্যে আসছেন অমিত শাহ। সেদিন কয়েক জন বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দেবে বলে খবর।
মান্নান সাহেবের এ কথার জবাবে এদিন পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, যাঁরা বিধানসভায় থেকেও ভিতরে যাননি তাঁদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে। সেই সঙ্গে তৃণমূলের বক্তব্য, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দূর দূর থেকে সংকটের কোনও প্রশ্নই নেই।