দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশের মাধ্যমে শিশুদের জন্য দুধ বিতরণ করা শুরু হল পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ের বিভিন্ন এলাকায়। লকডাউনের জেরে যাঁদের কাছে বাড়তি দুধ রয়ে গিয়েছে তাঁরাই উদ্যোগী হয়ে পুলিশের মাধ্যমে তা বিলিয়ে দেওয়া শুরু করেন।
নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করতে দেশ জুড়ে চলছে লকডাউন। সাধারণ মানুষ গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন। শক্তিগড় থানা এলাকায় সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছে এলাকার বিভিন্ন ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। এগিয়ে এসেছেন উদ্যমী যুবকরাও। তাঁরা চাল, ডাল, সবজি প্রভৃতি দিয়ে মানুষকে সাহায্য করছেন।
শক্তিগড় থানার ওসি কুণাল বিশ্বাসের নেতৃত্বে বুধবার শক্তিগড় থানা এলাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে আটকে পড়া রোগীর পরিজন, ভিক্ষুক ও দরিদ্রদের রান্না করা খাবার ও চাল ডাল দিয়ে সাহায্য করা হয়।
এদিন যাঁদের বাড়িতে শিশু রয়েছে অথচ কোনও কারণে দুধ সংগ্রহ করতে পারছেন না শক্তিগড় থানার পুলিশ তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিনামূল্যে দুধ বিতরণ করে।
বর্ধমান সদর ২ ব্লকের দুলেপাড়ায় অবস্থিত বড়শুল মিল্ক প্রোডিউসার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক পিন্টু ঘোষ বলেন, “আমাদের দুগ্ধ সমবায়ে প্রতিদিন একশো জন চাষির কাছ থেকে প্রায় দু’হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করা হয়। করোনা ভাইরাসের কারণে অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। শক্তিগড় থানার মাধ্যমে শিশুদের জন্য গড়ে প্রতিদিন ৫০ লিটার করে দুধ বিতরণ করা হবে যাতে শিশুদের দুধের প্রয়োজন কিছুটা মেটে। বিভিন্ন ইঁটভাটায় এবং বিভিন্ন গ্রামে যাঁদের বাড়িতে শিশু আছে কিন্তু বর্তমানে দুধ কেনার সামর্থ্য নেই তাঁদের দুধ বিলি করা হচ্ছে। প্রয়োজনে দুধের পরিমাণ বাড়ানো হবে।”
দীর্ঘ দিন ধরেই লকডাউনের জেরে মিষ্টির দোকান বন্ধ। এখন তা খুললেও দিনের নির্দিষ্ট সময়েই খোলা থাকছে। এজন্য দুধের চাহিদা খুব কম। কয়েক দিন আগে দেখা গেছে যে বাঁকুড়ার একটি গ্রামে হাজার হাজার লিটার দুধ স্রেফ ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন দুগ্ধ ব্যবসায়ীরা। এই অবস্থায় উদ্বৃত্ত দুধ শিশুদের মধ্যে বিলি করা শুরু হতে সকলেই খুশি।