আনিসের কবরের সামনে ভোররাত থেকে তুমুল বিক্ষোভ, দেহ তুলতেই দিলেন না গ্রামবাসীরা
ছাত্রনেতা আনিস খানের (Anis Khan) কবরের সামনে শনিবার ভোর রাত থেকেই তুমুল বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের জন্য আনিসের দেহ কবর থেকে তুলে নিয়ে যেতে আসে পুলিশ। কাকভোরে কবরের সামনে পুলিশ দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড
শেষ আপডেট: 26 February 2022 03:15
ছাত্রনেতা আনিস খানের (Anis Khan) কবরের সামনে শনিবার ভোর রাত থেকেই তুমুল বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের জন্য আনিসের দেহ কবর থেকে তুলে নিয়ে যেতে আসে পুলিশ। কাকভোরে কবরের সামনে পুলিশ দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। দেহ তুলতে বাধা দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে ছিলেন বিডিও ও বিএমওইএচ। তাঁদের বাধা দেন এলাকাবাসীরা। ফলে দেহ না নিয়ে খালি হাতেই ফিরে যেতে হয় পুলিশ ও সরকারি আধিকারিকদের।
গ্রামবাসীদের দাবি, আনিস খানের দেহ কখন কবর থেকে তোলা হবে সে নিয়ে আনিসের বাবার সঙ্গে কথা হয়েছিল সিটের আধিকারিকদের। সোমবার দেহ তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তাহলে শনিবার ভোররাতে পুলিশ কেন এসেছিল? তাঁদের দাবি, সিটের আধিকারিকরা ছিলেন না। শুধু পুলিশ, বিডিও ও কয়েকজন সরকারি আধিকারিক ছিলেন। আনিসের পরিবারের অনুমতি না নিয়েই দেহ কবর থেকে বের করে নিয়ে যেতে এসেছিল পুলিশ।
আরও পড়ুন: টিআই প্যারেডে গিয়ে আনিসের বাবা বললেন, এখানে খুনি নেই
ঘড়ির কাঁটায় তখন ৩টে ৩৭ মিনিট। আমতার এসডিপিও কৃষ্ণেন্দু ঘোষ দস্তিদার আসেন। তাঁর সঙ্গেই আসেন কয়েকজন পুলিশকর্মী। পুলিশ মাইকিং করে আনিসের দেহ তোলা হবে। এটা শুনেই ছুটে আসেন গ্রামবাসীরা। পুলিশকে বাধা দেওয়া হয়। গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ থামাতে ভোর পৌনে ৫টা নাগাদ বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছয় ঘটনাস্থলে। আসে র্যাফ। কিন্তু পুলিশকে কিছুতেই কবর খুঁড়ে দেহ তুলতে দেন না এলাকার লোকজন। ৫টার পরে সিটের প্রতিনিধিদলও পৌঁছয়। কিন্তু গ্রামবাসীদের বাধা পেয়ে খালি হাতেই ফিরতে হয় সকলকে।
আনিস খানের মৃত্যুর তদন্ত করতে ইতিমধ্যেই সিট গঠন করা হয়েছে। সিটের তদন্তকারী অফিসাররা আনিসের দেহ দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করার অনুমতি চেয়েছিলেন। তাতে সম্মতিও দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। এদিন পুলিশ এলে স্থানীয়দের তরফে বলা হয় আনিসের দেহ কোনও ভাবেই ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া যাবে না। দেহ তুলতে হলে আনিসের পরিবারের সম্মতি লাগবে। বিনা অনুমতিতে দেহ কোনও ভাবেই তুলে নিয়ে যাওয়া যাবে না। এদিকে, গ্রামবাসীদের বাধায় কার্যত খালি হাতেই ফিরে যেতে হয় সিটের সদস্য এবং বিডিওকে।