দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামাজিক জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা বসেছে কয়েক দিন আগে থেকেই। গণপরিবহণ যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করতে বলা হয়েছে সরকারি ভাবে। আর আজ থেকে তো পুরোপুরি লকডাউন ঘোষণা হয়েছে রাজ্যে। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক ভাবেই আয়োজন করা যাচ্ছে না কোনও রক্তদান শিবিরও। ফলে ব্লাডব্যাঙ্কগুলিতে রক্তসঙ্কট চরমে। বেশ কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন রোগীর রক্ত না পেয়ে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার খবর পাওয়া যাচ্ছিল নানা প্রান্ত থেকে। এই অবস্থার মোকাবিলায় জরুরি বৈঠক করল স্বাস্থ্য ভবন। নেওয়া হল ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। সেই সঙ্গে ঘোষণা করা হল একাধিক নিয়ম। এক স্বাস্থ্যকর্তা জানিয়েছেন, দ্রুত সব জায়গায় রক্তদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্যাম্পের ব্যবস্থা করতে হবে।
গত কয়েক দিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় একের পর এক রক্তদান শিবির বাতিল করা হয়েছে। ব্লাডব্যাঙ্কগুলিতে ডোনার এসে রক্ত দেওয়ার পরিমাণও অনেক কমে গেছে। এর ফলে চরম বিপদে পড়েছেন বহু রোগী পরিবার। বিশেষ করে ক্যানসার বা থ্যালাসেমিয়ার মতো অসুখে যাঁরা চিকিৎসাধীন, নিয়মিত রক্ত দিতে হয়, তাঁরা বিপদে পড়েছেন সবচেয়ে বেশি। আপৎকালীন অস্ত্রোপচারের রোগীদেরও একই সমস্যা।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ভবন একগুচ্ছ নয়া নির্দেশ দিয়েছে।
১. শিবিরের আয়োজন করা যেতে পারে, কিন্তু প্রতিটি শিবিরে ৩০ জনের বেশি রক্ত দিতে পারবেন না।
২. রক্ত দেওয়ার জন্য চার থেকে পাঁচ জনকে ঢুকতে দেওয়া হবে একসঙ্গে। বাকিরা দূরে কোথাও অপেক্ষা করবেন।
৩. যে চার-পাঁচ জন রক্ত দেবেন, তাঁদের প্রত্যেকের থেকে প্রত্যেকের বেডের দূরত্ব হবে এক মিটারের বেশি রাখতে হবে।
৪. রক্তদাতারা ২৮ দিনের মধ্যে বাইরে কোথাও গিয়েছিলেন কিনা দেখে নিতে হবে। যদি রাজ্যের বাইরে যান কিংবা বিদেশে যান, তাহলে তাঁর রক্ত নেওয়া যাবে না।
৫. যদি বাইরে যাবার কোন হিস্ট্রি নাও থাকে, তবু সর্দি-কাশি বা জ্বরে আক্রান্ত হলে, তার রক্ত নেওয়া যাবে না।
৬. ছোট ছোট সংস্থাগুলিকে রক্তদান করার জন্য আবেদন জানানো হচ্ছে।
৭. রক্তদান শিবিরে কোনও রকম ভিড় করানো যাবে না। কোনও প্রচার করা যাবে না কোনও বিষয়ে।
৮. রক্তদান শিবিরের তিন জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবক একসঙ্গে থাকতে পারবেন না।
৯.রক্তদাতার 'সেলফ্ ডিক্লারেশন' যে নেওয়া হয়, তার উপরে আরও জোর দিতে হবে এবং তিনি যেন ঠিকটাই বলেন, এই বিষয়টি স্থানীয় ভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
১০. রক্ত সংকট মেটাতে দ্রুত সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

স্বাস্থ্যভবনের এই সিদ্ধান্তে এবং নির্দেশিকায় খুশি রক্ত-কর্মীরা। প্রতিদিন জরুরি রোগীদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও ব্লাডব্যাঙ্ক বা হাসপাতালের কর্মীরা নিজেরাই ডোনেট করছেন বাধ্য হয়ে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশ মেনে যদি কয়েকটি ক্যাম্প করা যায়, যদি রক্তদাতারা উৎসাহিত হয়ে এগিয়ে আসেন, তাহলে সমস্যার সমাধান হতে পারে।