
শেষ আপডেট: 8 April 2022 10:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেই আতঙ্কের দিন কি ফিরছে? মাওবাদীদের ডাকা বাংলা বনধে (Maoist Strike) জঙ্গলমহলের এদিনের চেহারাটা সেই প্রশ্ন তুলে দিল। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল হোমগার্ড নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শুক্রবার বাংলা বনধের ডাক দেয় মাওবাদীরা। বাঁকুড়ার (Bankura) জঙ্গলমহল এলাকার চারটি ব্লক রানিবাঁধ, রাইপুর, সারেঙ্গা ও সিমলাপালে এদিনের বনধে জনজীবন কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। খোলেনি দোকানপাট, গাড়িও বিশেষ চলছে না। বেসরকারি বাস, অটো-টোটোর দেখা নেই। দু'চারটে যাওবা সরকারি বাস চলছে তাতে লোক নেই।
গত এক মাসে ধীরে ধীরে জঙ্গলমহলে সক্রিয়তা বাড়িয়েছে মাওবাদীরা। ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া জঙ্গলমহল এলাকায় একের পর এক মাওবাদী পোস্টার দেখা গিয়েছে। এর আগে তাদের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নেতা প্রশান্ত বসু ওরফে কিষানদাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বনধ ডাকে মাওবাদীরা। দীর্ঘদিন পর তাদের সেই বনধে সাড়া পড়েছিল জঙ্গলমহলে। এরই মাঝে বৃহস্পতিবার বেলপাহাড়ির লাবনী থেকে উদ্ধার হয় ল্যান্ডমাইন।
বনধের আগের দিন ল্যান্ডমাইন উদ্ধারের ফলে আমজনতার মনে আতঙ্ক আরও তীব্র হয়েছে। যার প্রভাবে এদিন বনধে দোকান খোলার ঝুঁকি নেননি ব্যবসায়ীরা। রাস্তায় বের হয়নি বেশিরভাগ মানুষ।
এদিকে বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের পাশাপাশি মাওবাদীদের ডাকা বনধে গোটা ঝাড়গ্রাম জেলার জনজীবনও কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। ঝাড়গ্রাম শহর, বেলপাহাড়ি, লালগড়, দহিজুড়ি, শিলদা, জামবনী সর্বত্র বনধের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। রাস্তাঘাটে মানুষজন দেখা যাচ্ছে না। দেখে মনে হবে কী যেন এক আতঙ্ক গ্রাস করেছে সবাইকে! তবে বাঁকুড়ার অন্যত্র বনধের কোনও প্রভাব পড়েনি, সেখানে জনজীবন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
এক দশকের কিছু বেশি সময় আগে মাওবাদী তাণ্ডবে কেঁপে উঠেছিল জঙ্গলমহল সহ রাজ্যের গোটা পশ্চিমাঞ্চল। শুরু হয়েছিল খুনের রাজনীতি। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু ফের মাওবাদী তৎপরতা বাড়তে থাকায় সেই পুরনো দিন ফিরে আসার আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেছে জঙ্গলমহলের মানুষ।
মাওবাদীদের বনধে স্তব্ধ ঝাড়গ্রাম, রাস্তায় নেই তৃণমূল, ফোন ধরছেন না এসপি