
শেষ আপডেট: 23 September 2022 11:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাপে কাটার (snake bite) পর মৃত্যু হয়েছিল যুবকের। কিন্তু ওঝা নিদান দিয়েছিল, জলে দেহ (dead body) ডুবিয়ে রেখে মন্ত্রপাঠ করলে আবার প্রাণ ফিরবে দেহে। একুশ শতকে সেই কুসংস্কারের দোহাই দিয়েই ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় জলে ডুবিয়ে রাখা হল (drowned) মৃত যুবকের দেহ। শেষে যখন পচন ধরতে শুরু করেছে সেই মৃতদেহে, তখন পুলিশ গিয়ে তা উদ্ধার করল।
ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানের নানুরের হোসেনপুর গ্রামে। মৃত যুবকের নাম সুজন থান্ডার। জানা গেছে, গত বুধবার বিকালে আখের খেতে গিয়েছিলেন ওই যুবক। তখনই সঁপে ছোবল মারে তাঁকে। সন্ধ্যের পর থেকেই বমি করতে শুরু করেন সুজন। তখন প্রথমে তাঁকে স্থানীয় এক ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও সুজনের অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর তাঁর মৃতদেহ গ্রামে ফিরিয়ে আনা হয়।
তারপরেই আবির্ভাব হয় এক নতুন ওঝার। বর্ধমান থেকে আসা ওই ওঝা নিদান দেয়, সুজনের মৃতদেহ জলে ডুবিয়ে রেখে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে দেহে প্রাণ ফিরিয়ে আনবেন তিনি। সেই মতো বাড়ির উঠোনেই ছোট করে পুকুর খোঁড়া হয়। মাথাটুকু ছাড়া সুজনের বাকি দেহ সেই পুকুরে ডুবিয়ে রাখা হয়। তারপর শুরু হয় মন্ত্রপাঠ। সুজনের প্রাণ ফেরার অপেক্ষা করতে থাকেন তাঁর পরিজনেরা।
এর মধ্যেই খবর পায় নানুর থানার পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে হাজির হন পুলিশের আধিকারিকরা। প্রাথমিকভাবে পুলিশকেও ঢুকতে বাধা দেন গ্রামবাসীরা। আর সেই সুযোগেই ওঝা পালিয়ে যায়। মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে সেটি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মুণ্ডু কাটা মহিলার দেহ উদ্ধারের পরেই গ্রেফতার স্বামী! মালদহে হাড়হিম ঘটনা