
শেষ আপডেট: 2 August 2023 15:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মণিপুরের পর এখন গোষ্ঠী সংঘর্ষের আগুন জ্বলতে শুরু করেছে হরিয়ানায় (Haryana Violence)। দুই বিজেপি শাসিত রাজ্যে এভাবে দাঙ্গার আগুন ছড়িয়ে পড়ায় বুধবার তীব্র সমালোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
হরিয়ানার হিংসা পরিস্থিতি নিয়ে সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর নয়া বিতর্ক তৈরি করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকারের পক্ষে সবাইকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। এদিন খট্টরের সেই কথার সূত্র ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, “এটা ঠিক যে প্রতিটি মানুষকে আলাদা করে সুরক্ষা দেওয়া সব সময়ে সম্ভব হয় না। কিন্তু দাঙ্গায় উস্কানি দেওয়া, প্ররোচনা দেওয়া তো বন্ধ করা যায়। আগে আগুন লাগাচ্ছে, তার পর নেভানোর জল পাচ্ছে না।”
২০১৪ সালে লোকসভা ভোটের আগে বাংলার মানুষের মন জিততে নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপির সরকার থাকলে—‘দোনো হাত মে লাড্ডু’। পরে এই ব্যবস্থাকে ডবল ইঞ্জিন সরকার বলে প্রচার করতে নামেন মোদী-শাহরা। কিন্তু ঘটনাচক্রে এখন দেখা যাচ্ছে, দেশের যে দুই রাজ্য গোষ্ঠী সংঘর্ষের কারণে অগ্নিগর্ভ হয়ে রয়েছে, সেই দুটিই বিজেপি শাসিত। বিরোধীরা তাই খোঁচা দিতে শুরু করেছেন যে ডবল ইঞ্জিন জ্বলছে।
আরও পড়ুন: যে কারণে মমতার চোখে আনন্দের থেকে ধনকড় ভাল
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার এ ব্যাপারে বলেন, “পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের এখনও ৬ মাস বাকি। তার আগেই নোংরা খেলায় নেমে পড়েছে বিজেপি। কখনও মানুষে মানুষে সংঘাত লাগিয়ে দিচ্ছে, কখনও জাতিতে জাতিতে বিভাজন তৈরি করছে, কখনও সম্প্রদায়ের মধ্যে ঝগড়া লাগাচ্ছে। আর তা করছে স্রেফ ভোটে জেতার জন্য। এই নকশা খারাপ শুধু নয়, দেশের জন্য বিপজ্জনক”।
এ বছরের শেষে রাজস্থান, ছত্তীসগড়, মধ্যপ্রদেশ, তেলঙ্গনা, মেঘালয়ে নির্বাচন। তার পরই লোকসভা ভোটের দামামা বেজে যাবে। বিরোধীদের অনেকেই পুর্বানুমান করছেন যে, কর্মসংস্থানের অভাব, মূল্যবৃদ্ধি পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক মন্দার মতো বিষয়কে আড়াল করতে দেশে ধর্মীয় মেরুকরণ তীব্র করে তোলার চেষ্টা করতে পারে গেরুয়া শিবির। সে জন্য গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনা আরও ঘটতে পারে। তার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে সমাজ মাধ্যমে লাগাতার উস্কানি দেওয়া চলছে।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই আশঙ্কাই প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এমনটা হতেই পারে যে অনেক সময়ে কিছু ঘটনা ঘটে যায়। কিন্তু তা বন্ধ করতে সরকারের সদিচ্ছা তো থাকতে হবে। সরকারের মনের জোর থাকতে হবে। সরকারই যদি তা থামাতে না চায় বা আগেই হাত তুলে দেয় তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে!
হরিয়ানার যে অংশে গোষ্ঠী সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা রাজধানী দিল্লি থেকে দূরে নয়। দেশের রাজধানী শহরের উপকণ্ঠে গোষ্ঠী সংঘর্ষে নিরীহ মানুষ মারা যাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে দেশের মুখ যে পুড়ছে তাতে সংশয় নেই। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে দেখা যাচ্ছে, এ নিয়ে কেন্দ্র সরকার প্রকারান্তরে নীরব। তবে বিরোধীরা সরকারকে চেপে ধরতে চেষ্টার কসুর করছেন না। ৮ ও ৯ অগস্ট সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। সেই বিতর্কে সমষ্টিগত সরকারকে চেপে ধরতে চাইছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া।