দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেউ চাইলেন কলেজ, কেউ বা অন্য কিছু। কিন্তু দুই দিনাজপুরের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এখন সরকারের হাত টান আছে। দু’বছর কিচ্ছু চাইবেন না।
কেন?
তারও ব্যাখ্যা দেন মমতা। এদিন জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যতই দাও শুধু চাই, কাজের বেলা কিছু নাই। জিতে গেছেন, ভাল করে কাজ করুন। শুধু দাও দাও করলে হবে? টাকাটা আসবে কোথা থেকে? একবারও ভেবেছেন? জানেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে কত টাকা খরচ হচ্ছে? সেই টাকা তো আমাদেরই জোগাড় করতে হচ্ছে! দু’বছর এখন কিচ্ছু চাইবেন না!”
মুখ্যমন্ত্রী এদিন এও বলেন, সব কাজই মোটামুটি সরকার করে দিয়েছে। বিধায়কদের এখন কাজ হচ্ছে মানুষের পাশে থাকা। দু’বছর কিচ্ছু চাওয়া যাবে না। ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তোমরা ম্যাজিশিয়ান তৈরি করো। সে তোমাদের টাকা দিয়ে দেবে!”
জেলা চেম্বার অফ কমার্সের এক প্রতিনিধি দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ইথানল তৈরির কারখানা করার জন্য এক শিল্পপতি চারশ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত। যদি বিদ্যুতের রেটটা একটু কমিয়ে দেওয়া যায়!
শুনেই রেগে যান মমতা। বলেন, “আপনি কি চান সরকার ভিখারি হয়ে যাক? বিদ্যুতের জন্য সরকারকে অনেক ভর্তুকি দিতে হয়। আর পারবে না। শুধু সরকারের থেকে নেওয়ার ধান্দা!”
আবার এও ঠিক দিদি সবাইকে বকুনি দেননি। যেমন কুশমুন্ডির বিধায়ক নমিতা রায় মুখ্যমন্ত্রীর থেকে একটি কমিউনিটি সেন্টার আবদার করেন। কিন্তু মমতা তাঁকে ফেরাননি। এই প্রথম বামেদের হাত থেকে ওই আসন ছিনিয়ে নিয়েছে তৃণমূল। ১৯৭৭ সাল থেকে এই আসন ছিল আরএসপি-র দখলে। ফলে দিদি বোধহয় সেকারণেই কুশমুন্ডির বিধায়ককে ফেরালেন না। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদকে বলেন, একটি কমিউনিটে সেন্টার গড়ে দেওয়ার বিষয়ে দেখতে। তবে মমতার বক্তৃতায় এদিন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, নবান্নের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বাড়ন্ত।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতা নিয়ে বিজেপির এক নেতা বলেন, “ভোটের আগে উত্তরবঙ্গে গিয়ে দিদিমণি কাকুতিমিনতি করেছিলেন। কিন্তু যেই ভোট হয়ে গিয়েছে, এখন বলছেন টাকা নেই!”