দ্য ওয়াল ব্যুরো: নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহরা তাঁদের অশ্বমেধের ঘোড়া ছোটাতে যখন আঞ্চলিক দলগুলির নেতা, বিধায়কদের বিজেপিতে সামিল করাচ্ছেন, তখন জাতীয় স্তরে একটি পুরনো অক্ষকে নতুন করে ঘষামাজা করে তুলতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সূত্রের খবর, রবিবাসরীয় সকালে তিনি ফোন করেছেন এনসিপি নেতা শরদ পওয়ারকে। তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, পাওয়ার বলেছেন সমস্ত আঞ্চলিক দলগুলি তৃণমূলের পাশে রয়েছে। প্রয়োজনে কলকাতায় এসে সভাও করতে তাঁরা প্রস্তুত। সামনের বছর জানুয়ারি মাসে কলকাতায় এই দলগুলির একটি সভা হতে পারে।
এক সময়ে সোমেন মিত্রর সঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদ নিয়ে বিবাদের সূত্র ধরে কংগ্রেস ভেঙে নতুন দল গড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শরদ পওয়ার এক দাগ উপরে। তিনি সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হতে না পরে সনিয়া বিরোধিতা করে কংগ্রেস ভেঙেছিলেন। যে সনিয়াকে তিনি বিদেশিনী বলে রাজনৈতিক আক্রমণ করেছিলেন, পরে তাঁর নেতৃত্বে জোটে সামিল হন।
সেই ইতিহাসের প্রেক্ষাপটেই এখন নতুন বর্তমান। বাংলায় তৃণমূল ভাঙছে। মহারাষ্ট্রে তাঁর নিজের দলকে ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন শরদ পাওয়ার। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এই যে নতুন অক্ষ তৈরি হয়েছে তার একটা নব্য কারিগর ইদানীং তৈরি হয়েছে। তিনি নামে পেশাদার। কিন্তু আদতে রাজনীতির মধ্যে ডুবে রয়েছেন অহোরাত্র। এবং সম্ভবত বৃহত্তর রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে তিনি ডিএমকে, এনসিপি, তৃণমূল, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মতো দলগুলিকে এক সুতোয় গাঁথতে চাইছেন।
প্রশ্ন হল, এতে কি বাংলায় ভাঙন রোখা যাবে? তা ছাড়া বাংলার রাজনীতিতে শরদ পওয়ার, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, এম কে স্ট্যালিনরা কতটা প্রাসঙ্গিক।
প্রসঙ্গত, লোকসভা ভোটের ঠিক আগে উনিশ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলায় এই সব নেতাদের নিয়ে ব্রিগেডে বড় জমায়েত হয়েছিল। অনেকের মতে, ওই সভা করে একটা ধারনা তৈরির চেষ্টা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তা সম্ভবত কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি। রাজ্যে ১৮ টি আসন জিতে নিয়েছে বিজেপি। কেন্দ্রে একাই পেরিয়ে গিয়েছে তিনশ আসন।
এ প্রসঙ্গে এদিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, “আমি একটাই কথা বলব-- দ্যাখ কেমন লাগে!” তাঁর কথায়, “এই আঞ্চলিক দলগুলিই দল ভাঙানোর সংস্কৃতি এনেছে। ১১ সালে বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট সরকার তৈরি করে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। কংগ্রেসের বিধায়ক ভাঙিয়েছে। সিপিএমের বিধায়ক ভাঙিয়েছে। শরদ পওয়ারের রাজনৈতিক ইতিহাসও তাই। কদিন আগে তামিলনাড়ুর কংগ্রেস নেত্রী খুশবু সুন্দরকে কংগ্রেসের থেকে ভাঙিয়ে নিয়েছেন স্ট্যালিন। দিল্লিতে কংগ্রেস ভাঙিয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সুতরাং এদের কান্না কে শুনবে? কেউ শুনবে না।”