
শেষ আপডেট: 14 February 2023 13:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে, কে কোথা ধরা পড়ে কে জানে! নয়তো কি আর রাজপ্রাসাদের বিলাস-বৈভব ভুলে সাধারণ গোয়ালার প্রেমে পড়তেন রাজকন্যা? সে যেন শ্যামের বাঁশি! বনে বাদাড়ে জঙ্গলের মধ্যে একা একা বাঁশি বাজিয়ে ঘুরত সেই গোয়ালার ছেলে। তখনও তাকে চিনতেন না রাজকুমারী। কিন্তু বাঁশির সুরেই পাগলপারা হয়ে উঠত মন। তারপর একদিন সে এল রাজপ্রাসাদে। বাবার শরীর খারাপ, তাই দুধ দিতে ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন তিনি। অন্দরমহল থেকে উঁকি দিয়ে সেই যে একবার দেখা, ব্যস!
দুই হৃদয়ের মিলন ঘটল। শাল-পিয়ালের বনে দেখা দেখা হতে লাগল মাঝে মাঝেই। গোয়ালার ছেলের প্রেমে পরে রাজার ঐশ্বর্য ভুলে তার হাত ধরে বেরিয়ে যেতেও আপত্তি ছিল না রাজকন্যার। কানাঘুষোয় মেয়ের প্রেমের খবর পৌঁছে গেল রাজার কানে। আর দেখে কে! গোয়ালার ছেলের এত সাহস, মেয়েকে নিয়ে পালানোর ফন্দি এঁটেছে সে? ডাকো পেয়াদাদের, রাজসভায় সবার সামনে ধরে আনা হল 'অপরাধী'কে। বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল গোয়ালা-পুত্রকে।
চোখের সামনে প্রেমিকের মৃত্যু দেখলেন অসহায় রাজকুমারী। নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিলেন তিনি। বেশিদিন গেল না, তারপরেই ক্ষোভে, দুঃখে আত্মহত্যা করলেন তিনিও। প্রেমিককে সমাধিস্থ করা হয়েছিল যেখানে, যেখানেই শালগাছের জঙ্গলের ভিতরে সমাধিস্থ করা হল রাজকন্যাকেও। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে নাগরপোঁতার জঙ্গলে (Nagraponta forest) সামন্ত রাজার মেয়ে আর গোয়ালা প্রেমিকার সমাধি রয়েছে আজও। সেই অপূর্ণ প্রেমের গল্প মনে রেখে এখনও ভ্যালেন্টাইন্স ডেতে সেই সমাধিতে যান স্থানীয় প্রেমিক-প্রেমিকারা। জঙ্গলের গাছের পাতা সমাধিতে উৎসর্গ করে নিজেদের ভালবাসার পরিণতি লাভের মনোবাসনা জানিয়ে আসেন তাঁরা। সবার মনোবাঞ্ছা পূরণ হয় কিনা জানা নেই। কারও হয়, কারও উপর আবার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নেমে আসে বিচ্ছেদের খাঁড়া।
শুধু স্থানীয়রা নয়, প্রেমের সমাধি দেখতে ইদানীং নাগরপোঁতার জঙ্গলে গিয়ে হাজির হচ্ছেন দূরদূরান্তের পর্যটকরাও। সকলের কথা ভেবেই বিষয়টিকে আরও জনপ্রিয় করবে তুলতে এবার থেকে প্রেম মেলা (love fair) বসছে প্রেমের সমাধিতে। আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভ্যালেন্টাইন্স ডে থেকেই শুরু হচ্ছে মেলা। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঙ্গেই পরিবেশন করা হচ্ছে টুসু গানও।
প্রেমের সমাধি ঘিরে মানুষের উৎসাহ বাড়তে দেখে আউশগ্রাম ২ পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধক্ষ মানিক রুইদাস সম্প্রতি সেটি সংস্কারও করেছেন। তাঁর উদ্যোগেই প্রেম মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এলাকার ইতিহাস ও সংস্ক্রতি বাঁচিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর তিনি।
বিষয়টি নিয়ে একই রকম উৎসাহী আউশগ্রাম ২ ব্লকের বিডিও গোপাল বন্দ্যোপাধ্যায়ও। নাগরপোঁতা জঙ্গলের প্রেমের সমাধির কাছে একটি পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য জেলার পর্যটন বিভাগের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন তিনি।
ভালবাসা কি ‘বন্দি’ থাকে প্রেমের দিনে! দমদম জেলে কার্ড নিয়ে প্রেমিকা, গরাদের ওপারে প্রেমিক