
শেষ আপডেট: 10 August 2023 09:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিকিৎসক প্রজ্ঞাদীপা হালদারের (Dr Prajnadeepa Halder) রহস্য মৃত্যুর ঘটনায় এবার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে (role of the police) প্রশ্ন তুললেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত (Calcutta High Court)।
নিহত চিকিৎসক প্রজ্ঞাদীপা হালদারের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এসএসকেএমের চিকিৎসকদের দিয়ে দেখিয়ে দ্বিতীয় মতামত নেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। নিহত চিকিৎসকের পরিবারের আইনজীবী এদিন আদালতে অভিযোগ করেন, মেয়ের মৃত্যুর পরও পুলিশ মায়ের কোনও জবানবন্দি নথিভুক্ত করেনি। বিষয়টি জানতে পেরে ফের পুলিশের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় বিচারপতিকে। এখনই মৃতের মায়ের সাক্ষ্য গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।
বিচারপতি বলেন, “কী করে এই ক্ষত হয়েছে সেটা জানা জরুরি। অরিজিনাল পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট ও কেস ডাইরি দেখা দরকার। তদন্তকারী অফিসার কেন পরিবারের ভিডিয়োগ্রাফি করেননি, সেটাও দেখতে হবে।”
চলতি বছরের গত ১৯ জুন ব্যারাকপুর সেনা ছাউনির অফিসার্স কোয়ার্টার্স ম্যান্ডেলা হাউসের ২০ নম্বর ফ্ল্যাটের একটি ঘর থেকে উদ্ধার হয় চিকিৎসক প্রজ্ঞাদীপা হালদারের ঝুলন্ত দেহ। ওই ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করে পুলিশ। তাতে লেখা, ‘যে প্রহারের দাগ নিয়ে চলে গেলাম/ এর শোধ কেউ নেবে/ আমার মৃত্যুর জন্য কৌশিক দায়ী।’
পরিবার সূত্রের খবর, সেনাবাহিনীর চিকিৎসক কৌশিক সর্বাধিকারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল প্রজ্ঞাদীপার। তাঁরা একসঙ্গে লিভ ইনে থাকতেন। ঘটনার পর পুলিশ কৌশিককে হেফাজতেও নেয়। পরে জামিনে মুক্তি পান কৌশিক। নিহত চিকিৎসকের পরিবারের দাবি, “অভিযুক্ত নিজেও একজন চিকিৎসক। তিনি ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে ফোন করে ময়না তদন্তের রিপোর্ট প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। সেই তথ্য প্রমাণ রয়েছে। এমনকি ঘটনাস্থলে মৃত চিকিৎসকের দেহের ভিডিও রেকর্ডিং পুলিশ করলেও সেসব তদন্তে সামনে আনা হচ্ছে না।” ২১ অগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানিতে পুলিশকে তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আরও পড়ুন: ‘কাগজে-কলমে তদন্ত করবেন না, সঠিক তদন্ত করুন’, 'ভুয়ো' শিক্ষক মামলায় ভর্ৎসনা সিআইডিকে