
শেষ আপডেট: 25 November 2022 08:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছুদিন আগে কলকাতা হাইকোর্টের এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মুখোমুখি হয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Justice Ganguly)। পরে তিনি এজলাসে বসে নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময়ে দাবি করেছিলেন যে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে বলেছেন, ভাল কাজ হচ্ছে। চালিয়ে যান।
শুক্রবার নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে মামলার শুনানির সময়ে তাঁর পর্যবেক্ষণে ফের মুখ্যমন্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে আনলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। অযোগ্যদের চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে এদিন তাঁর পর্যবেক্ষণে সরকারকে তুলোধোনা করেছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। তৃণমূলের প্রতীক কেন কেড়ে নেওয়া হবে না, তা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন।
কিন্তু তার পরেই তিনি বলেছেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রীর যন্ত্রণা বুঝতে পারি। কিন্তু কিছু দালাল, যারা মুখপাত্র বলে পরিচিত, তারা আদালতের নামে যা ইচ্ছা বলছে। বলছে যে, নিয়োগ হলেই আদালতে গিয়ে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসছে”। এর পরই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় ভর্ৎসনার সুরে বলেন, “আদালত কি এগরোল নাকি, যে এলেই স্থগিতাদেশ পেয়ে যাবে!”
স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে যাঁরা ব্যতিক্রমী ভাবে (পড়ুন বেআইনি ভাবে) চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের চাকরি বাতিল করার পক্ষে ছিল না নবান্ন। সেই কারণে মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্থির হয়েছিল যে ৫২৬১টি শূন্য পদ তথা সুপার নিউমেরি পদ তৈরি করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী চান না যে যোগ্যরা বঞ্চিত হোক। একই সঙ্গে তিনি এও চান না যে কারও চাকরি চলে যাক। তাতে তাঁদের পরিবার বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
কিন্তু এভাবে অযোগ্যদের চাকরিতে বহাল রাখা নিয়েই তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি এদিন শুনানির সময়ে প্রশ্ন তোলেন, “এটা কোনও রাজ্যের নীতি হতে পারে? অযোগ্যদের চাকরি দিয়ে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ২৬২ কোটি টাকা কেন খরচ করা হবে?”
আদালতের নির্দেশে এদিন এজলাসে উপস্থিত হয়েছিলেন শিক্ষা সচিব মণীশ জৈন। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় তাঁকে প্রশ্ন করেন, “আপনার কি মনে হয় না যে মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত সংবিধানবিরোধী? ক্যাবিনেটের সদস্যরা কেন সই করলেন? কেউ তাঁদের সতর্ক করলেন না?”
তবে বিচারপতি যেভাবে বারবার তৃণমূল কংগ্রেস পার্টি, ‘দালাল মুখপাত্র’ ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করেছেন, তাতে বিতর্ক তৈরি হবে বলে অনেকে মনে করছেন। হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত তা শোনার পর হাইকোর্টের নির্দেশের উপর তিন সপ্তাহের জন্য স্থগিতাদেশ দিয়েছে।
'মন্ত্রিসভাকে পার্টি করে তৃণমূলের প্রতীক কেড়ে নিতে বলব কি’, বিস্ফোরক বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়