
শেষ আপডেট: 4 May 2023 10:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: কুড়িয়ে পাওয়া দুই শিশুর বেড়ে ওঠা ঝাড়গ্রামের (Jhargram orphans) এক হোমে। একজনের বয়স ৬-৭ বছর, আর দ্বিতীয়জনের মোটে দুই কি তিন বছর বয়সি। এবার তারা গ্রামবাংলা ছেড়ে পাড়ি দিল বিদেশে। একজন কানাডায় (Canada), অপরজন স্পেনে (Spain)। বুধবার ঝাড়গ্রাম ব্লকের মানিকপাড়া নিবেদিতা গ্রামীণ কর্মমন্দির দত্তক হোম থেকে ওই শিশুদের নতুন পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সেসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব সুনীল কুমার শর্মা, জেলা শিশু সুরক্ষা ইউনিটের প্রোটেকশন অফিসার সঙ্গীতা পারিয়া-সহ আরও অনেকে। বাচ্চাদু'টির মধ্যে একটি মেয়ে ও আর একজন ছেলে। তাদের নাম জয়ী ও ঋভু। জয়ী সেখানে টানা বেশ কয়েক বছর রয়েছে। বরং ঋভু মাত্র দু'বছরের অতিথি ছিল সেখানে। এতবছর থাকার পর তারা চলে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মুষড়ে পড়েছে হোম কর্তৃপক্ষ।
ওই হোমের সম্পাদক দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'বাচ্চাদু'টিকে খুব যত্ন করে বড় করেছি আমরা। জয়ীর বাঁচার সম্ভাবনাই ছিল না। জঙ্গলে যখন উদ্ধার করা হয়েছিল, তখন পিঁপড়ে ওর ঠোঁট, মুখ, চোখের কিছুটা অংশ খুবলে খেয়ে নিয়েছিল। তড়িঘড়ি তাকে কোলে তুলে হাসপাতালে ছুটে যায় স্থানীয় কয়েকজন কাঠুরিয়া। শুরু হয় চিকিৎসা। এরপর টানা জীবনযুদ্ধ শেষে বেঁচে ফেরে শিশুটি। তাই ওর নাম দেওয়া হয় জয়ী।'
জানা গিয়েছে, যেহেতু পিঁপড়ের কামড়ে জয়ীর চোখের ক্ষতি হয়েছিল, তাই তাঁকে এদেশের কোনও পরিবার দত্তক নিতে চায়নি। শেষে কানাডার বাসিন্দা এক শিক্ষিকা এগিয়ে আসেন। তিনি ২০১৭ সালে ভারতীয় সরকারের দত্তক গ্রহণের নিয়ম অনুযায়ী অনলাইন পোর্টালে আবেদন করেন। সেখানে ওই মহিলার জয়ীকে পছন্দ হয়। এরপর সমস্ত নিয়ম কানুন মেনে বিষয়টি এগোয়। সম্প্রতি তাতে সরকারি সিলমোহর পড়ে। অবশেষে বুধবার ওই মহিলার হাতে জয়ীকে তুলে দেওয়া হয়।
ঋভুর গল্পও শোনান দেবাশিস বাবু। বলেন, '২০২১ সালের ১৭ অগস্ট বেলিয়াবেড়া থানা এলাকা থেকে এই শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। ভালোবেসে তাঁর নাম রাখা হয় ঋভু। ওর বয়স দুই পেরিয়েছে মাসখানেক আগে। তাকে স্পেনের এক দম্পতি দত্তক নিয়েছে। শিশুরা নতুন পরিবার পেয়েছে, এতে ভীষণই খুশি হয়েছি।'
ময়নার বিজেপি নেতার দেহ ঢুকল কলকাতার হাসপাতালে, সকাল থেকে ঝামেলা তমলুকের মর্গে