
শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (ইস্ট) রাকেশ সিং
শেষ আপডেট: 16 December 2024 21:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাত বছর বিয়ে হলেও পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে খুনের অপরাধে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে জলপাইগুড়ি জেলা আদালত। স্ত্রীর দেহ বালিশ চাপা দিয়ে খুন করে দেহ বেঁধে সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে লোপাটের চেষ্টা করে সে।
অভিযুক্তকে সাজা শোনানোর পর শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (ইস্ট) রাকেশ সিং বলেন, মোট ১৯ জন মামলায় সাক্ষী দিয়েছিলেন। তিনি জানান, এটা রাজ্য পুলিশের বড় সাফল্য।
আরজি কর কাণ্ডে যেখানে ৯০ দিনের বেশি সময় কেটে গেলেও চার্জশিট জমা করতে পারেনি সিবিআই। উল্টে কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলের জামিন মঞ্জুর করেছে শিয়ালদহ আদালত। যদিও জয়নগর কাণ্ড এবং জলপাইগুড়িতে খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে আদালত। যার পর থেকেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি জেলা আদালতের অ্যাডিশনাল থার্ড কোর্টের বিচারপতি এই রায় ঘোষণা করেন। ঘটনা প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (ইস্ট) বলেন, ‘এটি ২০১৯ সালে এপ্রিল মাসের ২১ তারিখে ভক্তি নগর থানার একটি মামলা। সদ্য ফাঁসির সাজা প্রাপ্ত গোপাল দাস তার স্ত্রী লতা দাসকে বালিশ চাপা দিয়ে খুন করে। এখানেই শেষ নয়, বৈদ্যুতিক তার দিয়ে হাত পা বেঁধে রাখে। পরনের শাড়ি খুলে রেখে মৃতদেহটি বাড়ির সেপটি ট্যাঙ্কের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিল।’
২১ এপ্রিল, ২০১৯। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট-এর অন্তর্ভুক্ত ভক্তিনগর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়, স্ত্রী লতা দাসকে লতারই মায়ের বাড়িতে ১৯ এপ্রিল শ্বাসরোধ করে হত্যা করে গোপাল দাস, এবং তারপর স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে দেহ ফেলে দেয় প্রতিবেশীর সেপটিক ট্যাঙ্কে।
— West Bengal Police (@WBPolice) December 15, 2024
তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন… pic.twitter.com/YdTaASf6co
ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন ইনসপেক্টর দেবব্রত খাঁ। যাঁর তত্ত্বাবধানে ৭০ দিনের মাথায় চার্জশিট দাখিল করা হয়। মামলার বিচার শুরু হয় ২০২১ সালে। মোট ১৯ জন সাক্ষীর বয়ান নথিবদ্ধ হওয়ার পরে মামলায় রায় বেরিয়েছে গত ১০ ডিসেম্বর। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুনের দায়ে অভিযুক্ত গোপালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন জলপাইগুড়ি জেলা আদালতের অ্যাডিশনাল থার্ড কোর্ট।
পরবর্তীতে পুলিশ তদন্তে নেমে মৃতদেহ উদ্ধার করে। এরপরেই গোপাল দাসের বিরূদ্ধে তৎকালীন ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮(এ), ২০১,এবং ৩০২ ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে ভক্তিনগর থানার পুলিশ। গত বুধবার, ১১ ডিসেম্বর বিচারপতি অভিযুক্ত গোপাল দাসকে ফাঁসির সাজা ঘোষণা করেন।