
শেষ আপডেট: 13 August 2023 13:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: যাদবপুর কাণ্ডে (Jadavpur Student Death) এবার মৃত পড়ুয়ার পরিবারের সঙ্গে রানাঘাটে দেখা করলেন শিশু সুরক্ষা কমিশনের (Child Rights Commission) চেয়ারম্যান অনন্যা চট্টোপাধ্যায়। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
অন্যান্য দেবী বলেন, 'ওই পড়ুয়ার পরিবার ছেলের মৃতদেহে ঘি মাখানোর সময় গায়ে সিগারেটের একাধিক ছ্যাঁকার দাগ দেখতে পেয়েছেন। অমানবিকভাবে যে তাকে মারা হয়েছিল সে দাগ দেখেছেন। এমনকী যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল বলেও তাঁরা প্রমাণ পেয়েছেন।'
এরপরেই শিশু কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, 'আমরা যাদবপুরের মেন হোস্টেলে যাব। সেখানে সিসিটিভি রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখব। রেজিস্টার খাতাও দেখতে চাইব। যদি সেখানে দেখি, সিসিটিভি নেই, রেজিস্টারে খাতা মেইনটেন হয় না, তাহলে সেটা অমার্জনীয় অপরাধ। সেগুলি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও রেয়াত করা হবে না।'
অন্যান্য দেবী আরও বলেন, 'যাদবপুরের মধ্যে হোস্টেলে দীর্ঘদিন ধরে দাদাগিরি, মস্তানি হয়ে আসছে। এগুলিকে আর হতে দেওয়া যায় না। আমরা পুলিশের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়েছি, সিসিটিভি ও রেজিস্টার চেয়েও পাঠানো হয়েছে। উপাচার্য না থাকায় আমার ইউনির্ভাসিটির আচার্য অর্থাৎ গর্ভনরের কাছে এবিষয়ে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছি।'
দীর্ঘদিন এই ধরনের ঘটনা চলে আসছে জানা থাকলেও কেনও কোনও সিসিটিভি ও রেজিস্টার রাখা হল না, সে প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অন্যান্য দেবী 'হোক কলরব' আন্দোলনের কথা উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: আমাকে পুলিশ ডাকতে পারে, ভয় পেও না, বাবাকে ফোনে বলেছিলেন মনোতোষ
তিনি বলেন, আন্দোলনের সময়েই তাঁরা কলেজ হোস্টেলে সিসিটিভি ও রেজিস্টার মেইনটেন করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেই বিষয় নিয়ে কলেজ পড়ুয়া ও অধ্যাপকদের একাংশের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি উঠেছিল। ইউজিসির গাইড লাইন অনুযায়ী এই ব্যবস্থা সমস্ত কলেজ ও হোস্টেলে থাকার কথা। দেশের সমস্ত জায়গায় এই সমস্ত কিছুর ব্যবস্থা থাকলেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এত নাম করা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই গাইড লাইন মানা হয় না।
তিনি আরও বলেছেন, 'মৃত ওই পড়ুয়ার এখনও আঠারো বছর হয়নি। সেটা আমাদের জানা ছিল না। পরিবারের সঙ্গে কথা বলেই এই কথা আমরা জানতে পেরেছি। এই মামলা পকোসো আইনের মধ্যেই পড়ে।'
আর পড়ুন: ছেলে 'পরোপকারী' বলে দাবি দীপশেখরের মায়ের, বাবা বললেন, 'দোষী হলে শাস্তি পাক'