দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ধমান থেকে কলকাতা, ঠাঁই মিলল না কোনও হাসপাতালেই। ‘রেফারেল সিস্টেম’-এর চক্করে পড়ে মরণাপন্ন ডেঙ্গি আক্রান্ত কিশোর। ছেলেক ভর্তি করাতে হাসপাতালের দরজায় দরজায় ঘুরছে অসহায় পরিবার।
শক্তিনগরের বাসিন্দা বছর সতেরোর কিশোর হাসিবউদ্দিন মালিকের ডেঙ্গি ধরা পড়েছিল চলতি মাসে। গত ১২ দিন ধরে তার চিকিৎসা চলছিল বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে। কিশোরের পরিবার জানিয়েছে, বর্ধমান মেডিক্যালের চিকিৎসকরা সম্প্রতি জানিয়ে দিয়েছিলেন এই হাসপাতালে আর চিকিৎসা হবে না। কিশোরকে ভর্তি করাতে হবে কলকাতার বেলঘাটা আইডি হাসপাতালে। সেইমতো সোমবার সকালেই অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে কিশোরকে নিয়ে তার পরিবার পৌঁছয় কলকাতায়।
হাসিবের পরিবারের দাবি, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে রেফার সত্ত্বেও ছেলেকে ভর্তি নিতে রাজি হয়নি বেলেঘাটার আইডি হাসপাতাল। উল্টে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা নাকি জানিয়ে দেন, বেলেঘাটার আইডি হাসপাতালের কথা কোথাও লেখেননি বর্ধমান মেডিক্যালের চিকিৎসকরা। অতএব জরুরি বিভাগে ভর্তি নেওয়া যাবে না কিশোরকে।
সেই থেকেই কলকাতার পথে পথে ঘুরছে রোগীর পরিবার। হাসিবের মায়ের কথায়, ‘‘ছেলের অবস্থা গুরুতর। বেলেঘাটার আইডি হাসপাতালের ডাক্তাররা জানিয়ে দিয়েছেন ভর্তি নেওয়া হবে না। অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে আমরা এখন কোথায় যাব?’’ একই দাবি কিশোরের আত্মীয় ফিরোজ ইসলামেরও। তাঁর কথায়, ‘‘মরণাপন্ন রোগীকে নিয়ে কলকাতায় এসেছি। এখন আমরা কী করব। ছেলেটাকে কোথায় ভর্তি করব?’’
এ ব্যাপারে বেলাঘাটা আইডি অ্যান্ড বিজি হাসপাতালের এক আধিকারিক বলেছেন, "বিষয়টা শুনেছি। আমাদের কাছে এলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি।"
জেলা হোক বা শহরের হাসপাতাল, অযৌক্তিক রেফার ঘিরে অভিযোগ নতুন নয়। এর জেরে বারে বারেই সমস্যায় পড়তে হয়েছে রোগীর পরিবারকে। রাজ্যের রেফারাল ব্যবস্থাকে চাঙ্গা করতে আগে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। চালু হয়েছিল রেফারাল রেজিস্ট্রি অর্থাৎ কোনও হাসপাতাল থেকে রোগীকে অন্যত্র রেফার করা হলে কেন রেফার করা হচ্ছে, তার কারণ লেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই সেই ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়ে। ফলে ফের লাগামছাড়া হয়ে ওঠে রেফারাল ব্যবস্থা।