দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসএমএসের যুগে চিঠিপত্র লেখার চল প্রায় উঠেই গিয়েছে। কিন্তু পঞ্চায়েতের মহিমায় তা যে ফিরে আসবে কে জানতো? বাড়ি বাড়ি পোস্টকার্ড পাঠাচ্ছেন মান্তা দেবী। হঠাৎ কেন?
আসলে মান্তা বোস (চন্দ) ময়নাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৬/৭৫ বুথের বিজেপি প্রার্থী। অভিযোগ, মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর থেকেই শাসকদলের সন্ত্রাসে নাকি তিনি এলাকাছাড়া। ফলে প্রচার করতে পারছেন না। তাই বলে কি ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রাখবেন! তাই চিঠি পাঠানোর অভিনব পন্থা।
ভোটারদের বাড়ি বাড়ি চিঠি পাঠিয়ে তুলে ধরছেন বিভিন্ন আশা আশঙ্কার কথা। আজ দাদা বিরাজ চন্দকে নিয়ে জলপাইগুড়ি হেড পোস্ট অফিসে এসেছিলেন মান্তা। সেখানে চিঠিপত্র লিখে তা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি পাঠান। মান্তা বলেন, মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর থেকেই তৃণমূল অত্যাচার শুরু করেছে। বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। তাই, লাটাগুড়িতে বাপের বাড়ি চলে যান তিনি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন শেষ হয়ে যাওয়ার পর ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন। দাদাও সঙ্গে ছিলেন। দুজনকেই মারধর করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন মান্তা দেবী।
কিন্তু এভাবে কতটা প্রচার করতে পারবেন? চোখের জল মুছে মান্তা বলেন, তাঁর নিজের বাড়ি আছে। তা সত্ত্বেও তৃণমূল কর্মীদের ভয়ে বাড়ি ছাড়া। প্রচারও করতে পারছেন না। হার-জিত আছে। তা বলে নির্বাচনে লড়ার অধিকার নেই ? সবারই তো থাকা উচিত। এগুলোই তিনি চিঠিতে লিখে পাঠাচ্ছেন।
বিরোধী তকমা লাগিয়ে তাঁকে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন মান্তা দেবী। এলাকায় যেতে না পারলেও এলাকার লোকেদের সার্বিক উন্নয়ন করতে চান তিনি। এলাকা বাসীর কাছে তাঁর অনুরোধ একবার তাঁকে সুযোগ দেওয়ার। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন তিনি।
মান্তার অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন ময়নাগুড়ি ১ ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি মনোজ রায়। তিনি বলেন, মান্তা দেবীর অভিযোগ ভিত্তিহীন। পারিবারিক কারণে তিনি বাড়িতে থাকতে পারছেন না। ওঁর স্বামী সেন্টু বোস তৃণমূল কর্মী। স্বামীর সম্মতি না থাকা সত্ত্বেও বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন।
তাঁকে তাঁর স্বামী মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বলেছিল। তিনি করেননি। তাই, সেন্টুর সঙ্গে বচসা হয়েছে। এখানে তাঁদের কিছু করার নেই। কিন্তু মান্তা দেবী যদি চান, তাহলে বাড়িতে প্রবেশ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে তাঁরা প্রস্তুত বলে জানান মনোজ বাবু।