
শেষ আপডেট: 27 August 2023 15:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দত্তপুকুরে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (governor cv anad bose at duttapukur)। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘুরে দেখলেন সব জায়গা। বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮ জন।
দত্তপুকুরে পৌঁছে রাজ্যপাল কথা বলেন বিস্ফোরণস্থলে উপস্থিত থাকা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে। ঘটনাস্থলে ছিলেন বারাসতের পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্য়ায়। তিনি রাজ্যপালকে বিস্তারিত তথ্য দেন বিস্ফোরণের। 'এত মৃত্যু দুর্ভাগ্যজনক', সব শুনে বলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এদিনই দুপুরে মাটিগাড়ায় নাবালিকার পরিজনদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল। সেখান থেকে সরাসরি তিনি পৌঁছন দত্তপুকুরে। সেখান থেকে রাজ্যপাল হাসপাতালে যাবেন আহতদের দেখতে।
আজ সকালে শিলিগুড়িতে বসেই এই খবর পেয়েছিলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান, খবরটি শুনেছেন। এরপরই তিনি দত্তপুকুর যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শিলিগুড়ি থেকে দমদম বিমানবন্দরে নেমে সোজা সড়কপথে পৌঁছে যান এলাকায়।
রবিবার সকাল ৮টা নাগাদ বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে দত্তপুকুরের ওই বাজি কারখানা (Bengal Cracker unit blast)। বিস্ফোরণের তীব্রতার ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় কর্মরত শ্রমিকদের দেহ। কারও তালগোল পাকানো দেহ গিয়ে আটকে যায় চিলেকোঠায়, তো কোনও দেহ ছিটকে গিয়ে পড়ে ১৫০ মিটার দূরে।
এলাকাবাসীর দাবি, পুলিশ এবং প্রশাসনের নাকের ডগায় দীর্ঘদিন ধরেই রমরমিয়ে চলছিল এই বাজি কারখানা। মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা শামসুল আলি নামে একজনের জমির উপর তৈরি করা হয়েছিল কারখানাটি। যদিও সেটির চালানোর দায়িত্ব ছিল কেরামত আলি নামে একজনের। সেই মালিকের ছেলেরও মৃত্যু হয়েছে এদিনের বিস্ফোরণে। পরে মারা গেছেন কেরামতও। রেহাই পাননি শামসুলও। তিনিও মারা গেছেন।
এই ঘটনায় স্থানীয়রা সরাসরি তৃণমূলের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। নাম উঠেছে খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষেরও। যদিও রথীন ঘোষের দাবি, এর পিছনে রয়েছে আইএসএফ আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। রমজান আলি নামে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের এক নেতার নাম করে তিনি জানান, রমজান সহ আইএসএফের আরও অনেকে রয়েছে এই ঘটনার পিছনে। এ ব্যাপারে তিনি কিংবা পুলিশ কেউই কিছু জানত না বলে দাবি করেছেন খাদ্যমন্ত্রী।
বিস্ফোরণকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত, অর্থাৎ কারখানা মালিক কেরামত আলি নাকি এগরা বিস্ফোরণ কাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত ছিল। তাকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল তখন। তবে জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর ফের বেআইনি বাজি কারখানার কাজ করতে শুরু করে সে। অভিযোগ, বিস্ফোরণে যে কারখানাটি রবিবার উড়ে গেছে, শুধু যে সেখানেই বেআইনি বাজি মজুত ছিল তা নয়। এমনকী, আশেপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িতে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের সাহায্যে তৈরি করা হত বাজি। তবে এগরা কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়ার পরেও কীভাবে কেরামত আবার বাজির ব্যবসা শুরু করল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
দত্তপুকুর বিস্ফোরণে মৃত কারখানার মালিক কেরামত, ১৮ মাসের ছেলে মারা গিয়েছিল আগেই