দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড আবহে সারা দেশে আনলক-৪ এর গাইডলাইন ঘোষণা হল শনিবার। আশা করা হচ্ছে সেপ্টেম্বর থেকেই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে বিমান ও মেট্রো রেল পরিষেবা। এর মধ্যেই আরেকটি খুশির খবর দিলো রাজ্যের বনদফতর। বনদফতর সূত্রে জানানো হল পুজোর আগেই রাজ্যের সমস্ত জাতীয় উদ্যান খুলে দেবার চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি এই বিষয় নিয়ে বৈঠকও হয়েছে বার কয়েক। শনিবার শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গের বনকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক সারেন বনমন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জি। শিলিগুড়ির কাছে সাত মাইলে আয়োজিত এই মিটিং শেষে মন্ত্রী বলেন- "পুজোর আগেই যাতে এই রাজ্যের ন্যাশনাল পার্ক আর কটেজগুলো খুলে দেওয়া যায় তার চেষ্টা চালাচ্ছি। এখনও পর্যন্ত বিষয়টি আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। কলকাতায় পৌঁছে চূড়ান্ত বৈঠক করে,তারপরেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব।"
শিলিগুড়ির বৈঠকে উত্তরবঙ্গের উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন জাতীয় উদ্যান ও পার্কের কর্তারা। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে উত্তরবঙ্গ থেকে বিভিন্ন পার্কের আধিকারিক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারেরা মন্ত্রীকে রিপোর্ট দেবেন। বর্তমান অবস্থায় পার্ক খোলা সম্ভব কি না, খুললে কী ধরণের সতর্কতা নেওয়া যেতে পারে, সেই বিষয়গুলিও ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা থাকবে। এইসব রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই কলকাতায় অরণ্য ভবনে পিসিসিএফ–সহ অন্যান্য বনাধিকারিকদের সঙ্গে মিলিত বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বনমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ‘"করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্যের পর্যটনের অনেক ক্ষতি হয়েছে। উত্তরবঙ্গ সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এই ন্যাশনাল পার্কগুলো পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের জায়গা।সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখের পরে এই পার্কগুলো খোলা সম্ভব কী না, সে বিষয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি। যদি খোলা যায়, তাহলে কোভিড প্রোটোকল মেনে কী কী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন সেসব ঠিক করতেই এই মিটিং ডাকা হয়েছিল। এখনও সিদ্ধান্ত কিছু হয়নি। তবে চেষ্টা করছি পুজোর আগেই সাধারণ মানুষকে একটা সুখবর দিতে।’"
দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্কের ডিরেক্টর ধর্মদেও রাই জানান, ‘"কবে পার্ক খুলবে সে বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। পার্কে পর্যটকদের স্যানিটাইজার ও মাস্ক ব্যবহার করাও বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সামাজিক দূরত্ববিধিও মেনে চলা হচ্ছে কী না সেদিকেও কর্তৃপক্ষের নজর থাকবে।"
জঙ্গল আর বন্যপ্রাণী ভালোবাসেন অনেকেই। অথচ কোভিড পরিস্থিতির কারণে গত ছ'সাত মাস কার্যত গৃহবন্দি হয়ে আছেন রাজ্যের মানুষ৷ পুজোর মুখে অরণ্যপ্রেমী পর্যটকদের জন্য সত্যিই কোনও সুখবর অপেক্ষা করে আছে কী না, এখন সেটাই দেখার।