
শেষ আপডেট: 19 February 2023 07:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: শ্যামল শিকদার পেশায় একজন দর্জি। সেলাইয়ের কাজ করেই কোনওমতে চলে সংসার। হাজার অভাব অনটনের মধ্যেও দুই সন্তানের পড়াশোনায় কোনও আঁচ আসতে দেননি শ্যামলবাবু। করোনার সময় রোজগার প্রায় শূন্যে এসে ঠেকেছিল, তাও ছেলেদের লেখাপড়ার খরচ চালিয়েছেন। সেই পরিশ্রমের ফল মিলল এতদিন পর। শ্যামলবাবুর বড় ছেলে সুমন শিকদার দেশের বিখ্যাত মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ইসরোর (ISRO) চাকরির পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
গোবরডাঙার (Gobardanga) ১২ নম্বর কালীতলার বাসিন্দা সুমন শিকদার ছোট থেকেই অত্যন্ত মেধাবী। পড়াশোনা নিয়েই থাকতে ভালবাসেন তিনি। মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকে ভাল ফল কোরিয়ার পর গড়িয়াহাটে সরকারি আইটিআই কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন সুমন। ২০১৯ সালে সেখান থেকে সসম্মানে উত্তীর্ন হন তিনি। তারপর চোখে পড়ে ইসরোয় রকেট তৈরির প্রযুক্তিকর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি। আবেদন জানানোর পর ২০২২ সালে ইসরোর পরীক্ষায় বসেছিলেন সুমন। সম্প্রতি সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। তাতেই দেখা যায়, মাত্র ৩৪টি শূন্যপদের মধ্যে একটিতে জায়গা করে নিয়েছেন সুমন।
৩৪টির মধ্যে বাংলার জন্য শূন্যপদ ছিল মাত্র ৬টি। বলা বাহুল্য, সেই ৬ জনের মধ্যেই জায়গা করে নিয়েছেন সুমন। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরোর চাকরিতে যোগ দেবেন সুমন। অন্ধপ্রদেশে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য শুক্রবার রাতেই গোবরডাঙা থেকে রওনা হয়ে গেছেন তিনি। আপাতত ৬ মাস প্রশিক্ষণ চলবে। তারপর নির্দিষ্ট পোস্টে যোগদান করবেন তিনি।
ছেলের সাফল্যে আনন্দে চোখে জল শ্যামলবাবুর। টানাটানির সংসারে বরাবরই তিনি স্বপ্ন দেখতেন, একদিন মানুষের মতো মানুষ হবে দুই ছেলে। বড় ছেলে ইতিমধ্যেই সেই স্বপ্নপূরণের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল। 'সেলাই মেশিনের কাজ করে সংসার চালাই। ছেলেদের অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়েছি। বড় ছেলে ছেলে ইসরোতে চাকরি পেয়েছে। আমি আনন্দ ধরে রাখতে পারছি না,' দাবি তাঁর। 'আমাদের বহুদিনের স্বপ্ন সত্যি হল,' জানিয়েছেন সুমনের মা পূর্ণিমা শিকদার।
আফ্রিকা থেকে ফের ভারতে এল একডজন চিতা, সবচেয়ে ছোটটি মাত্র দু'বছরের! কতদিন বাঁচে এরা