দ্য ওয়াল ব্যুরো: হুগলির দাদপুর থানা এলাকার হারাল শেখপাড়ায় পারিবারিক অশান্তির জেরে ছেলেকে কাটারি দিয়ে কুপিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন বাবা। দু’জনকেই চুঁচুড়া ইমামবাড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল।
হারাল শেখপাড়ার বাসিন্দা শেখ ফরিদুল আলি পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁর বয়স আঠাশ থেকে তিরিশ বছরের মধ্যে। সোনার গয়নার ডিজাইনের কাজের জন্য তিনি পঞ্জাবে থাকতেন। করোনার জেরে লকডাউন শুরু হওয়ার পরে তিনি কাজ হারান। মাস খানেক আগে তিনি সেখান থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন। পরিবার সূত্রে খবর, তখন থেকেই টুকটাক অশান্তি শুরু হয়ে যায় পরিবারে।
মাস সাতেক আগে দেখাশোনা করে ফরিদুল আলির বিয়ে দেন তাঁর বাবা শেখ সোহরাব আলি। তাঁর বয়স বাহান্ন থেকে পঞ্চান্ন বছরের মধ্যে। তাঁদের পারিবারিক জমিজমা রয়েছে তবে তা খুব একটা বেশি নয়।
ফরিদুলের স্ত্রীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে সংসারে অশান্তি শুরু হয়ে যায়। ফরিদুলের রোজগার কম ছিল বলে তাঁর বাবা সোহরাব প্রথম দিকে ছেলের বিয়ে দিতে চাইছিলেন না। যদিও পরে তিনি দেখাশোনা করে ছেলের বিয়ে দেন। আজ সকালে বাবা ও ছেলের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। তখন মেজাজ হারিয়ে ছেলেকে কাতান দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করেন বাবা। তাতে ফরিদুলের দুই হাতে ও গলায় চোট লাগে। লুটিয়ে পড়েন ফরিদুল। প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে নিয়ে যান। তার পরেই বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন সোহরাব আলি। তাঁকে হাসপাতালে পাঠায় দাদপুর থানার পুলিশ।
এলাকার লোকজন মনে করছেন ছেলে মারা যেতে পারেন এই আশঙ্কাতেই বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন সোহরাব। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে তাঁর শরীর থেকে বিষ বের করা হয়েছে। তাঁর ছেলের এখন স্যালাইন চলছে।
সোহরাব এদিন অভিযোগ করেছেন ছেলে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চায়। তা নিয়ে সংসারে অশান্তি। তবে প্রতিবেশীরা এই অভিযোগ মানতে চাইছেন না। তাঁরা জানিয়েছেন, যে ছেলে থাকে সুদূর পঞ্চাবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেলে হয়তো সেখানেই চলে যাবে সেই ছেলে কেন বাবাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলবে? তাঁরা মনে করছেন ছেলেকে কোপানোর পরে এখন এই সব কথা বলছেন বাবা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে এখন দু’জনের অবস্থাই স্থিতিশীল। হাসপাতাল থেকে ছাড়লে পুলিশ তাঁদের জবানবন্দি নেবে। বাড়ির লোকের সঙ্গেও কথা বলছে পুলিশ।