খরচ কমাতে শ্রমিকের বদলে যন্ত্র-নির্ভরতা বাড়াচ্ছেন কৃষকরা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাষের উৎপাদন খরচ বেড়েছে নাগাড়ে। অন্যদিকে কৃষিতে টান পড়েছে কৃষি শ্রমিকের। তাই সমস্যায় জর্জরিত কৃষকরা ঝুঁকছেন আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারে।
রাজ্যের শস্যগোলা বলে পরিচিত পূর্ব বর্ধমানে ড্রামসিডের মাধ্যমে বোরো ধান রোয়ার কাজ
শেষ আপডেট: 6 February 2020 16:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাষের উৎপাদন খরচ বেড়েছে নাগাড়ে। অন্যদিকে কৃষিতে টান পড়েছে কৃষি শ্রমিকের। তাই সমস্যায় জর্জরিত কৃষকরা ঝুঁকছেন আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারে।
রাজ্যের শস্যগোলা বলে পরিচিত পূর্ব বর্ধমানে ড্রামসিডের মাধ্যমে বোরো ধান রোয়ার কাজ চলছে জোরকদমে। জেলার রায়না, খণ্ডঘোষ এলাকার কৃষকরা ধান রোয়া থেকে ধান কাটা – সবেতেই কৃষি যন্ত্রপাতি বেশি ব্যবহার করছেন কয়েক বছর ধরে। তবে বর্তমানে জেলার সর্বত্রই কমবেশি কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন কৃষকরা। ড্রামসিডে চাষ করার জন্য আগে থেকে বীজতলা তৈরি করার কোনও ঝক্কি নেই, খরচও নেই। ফলে চাষের উৎপাদন খরচ রোয়ার সময়েই অনেকখানি কমে যাচ্ছে।
এক বিঘে জমি রোয়া করতে ৬ কেজি বীজ লাগে। ধানের বীজ এক রাত জলে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন তা জল থেকে তুলে শুকিয়ে নিতে হবে। একদিন পরেই ভেজানো বীজে অঙ্কুরোদগম হবে। অঙ্কুর বেশি বড় হলে রোয়ার কাজে সমস্যা হবে। তাই অঙ্কুর হলেই ওই বীজ ড্রামসিডে ভরে জমিতে রুয়ে ফেলতে হবে। জমিতে বেশি জল রাখা যাবে না। মাটির প্রায় সমান সমান জল রাখতে হবে জমিতে। রোয়ার তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই অঙ্কুর মাটিতে গেঁথে যাবে। তবে ড্রামসিডে রোয়ার সময়ে জমিতে দড়ি দিয়ে দাগ করে লাইন দিয়ে বীজ ফেলতে হবে। না হলে বীজ বেলাইনে পড়লে উৎপাদন কমে যাবে।

চাষিরা জানান, হাতে ধান রুইলে বা কাটলে বিঘে প্রতি উৎপাদন খরচ পড়ে গড়ে ৯ হাজার টাকা। কিন্তু ড্রামসিডে রোয়া ও হারভেস্টারে ধান কাটলে উৎপাদন খরচ প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়। পাশাপাশি পোকার আক্রমণও অনেক কম হয়। ধানের উৎপাদনও বেশ বাড়ে।
সব দিক বিবেচনা করেই কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা। তাঁদের এই সিদ্ধান্তে অবশ্য সমস্যায় পড়েছেন যাঁদের সত্যিই কাজ দরকার এমন শ্রমিকরা।