
শেষ আপডেট: 20 May 2022 10:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রীষ্মকালীন পর্বতারোহণ মরসুম চলছে। দেশ বিদেশের অভিযাত্রীরা ছুটেছেন হিমালয়ের কোলে। একের পর এক উঁচু থেকে উঁচুতর শৃঙ্গ ছুঁয়ে ফেলার এই প্যাশন নতুন নয়। হাজারো ঝুঁকি জেনেও, শত কষ্ট সয়েও বারবার তাই পাহাড়ের ঢালে গিয়ে পৌঁছন অভিযাত্রীরা।
হাই অল্টিটিউডের এই ধরনের অভিযানে ঝুঁকি ও কষ্টের মধ্যে একটি অন্যতম হল স্নো ব্লাইন্ডনেস বা তুষার অন্ধত্ব। বরফে ঝলসানো সূর্যের আলো চোখে পড়ায় এই বিপত্তি ঘটে। বেশিরভাগ সময়েই উচ্চতা কমার সঙ্গে সঙ্গে চোখ ঠিক হয়ে গেলেও, ক্ষতি থেকেই যায় ভিতরে (Eye Treatment)। ফলে চোখের রেটিনায় স্ট্রোক, রেটিনা পুড়ে যাওয়া বা অস্থায়ী অন্ধত্বের মতো সমস্যার সংখ্যা কম নয়। অভিযাত্রী শুধু নয়, অভিযাত্রীদের সহযোগী শেরপারাও এর ভুক্তভোগী। এবার একসঙ্গে ১৩ জন এভারেস্ট আরোহণ করা শেরপার চোখের চিকিৎসা করে তাক লাগিয়ে দিলেন বাঙালি চিকিৎসক, ডক্টর কৌশিক বিশ্বাস!
শুধু চোখের চিকিৎসা (Eye Treatment) নয়, সেই সঙ্গে কয়েক বছর ধরেই অভিযাত্রীদের চোখ নিয়ে সমীক্ষাও করেছেন কৌশিকবাবু। তাঁর সেই সেই সমীক্ষাকে স্বীকৃতি দিয়েছে রেটিনা বিশেষজ্ঞদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব রেটিনা স্পেশালিস্টস।
চক্ষু চিকিৎসক কৌশিক বিশ্বাস বলেন, অসম্ভব মানসিক জোর পর্বতারোহীদের। বিপদ জেনেও পাহাড়ের টানে ছুটছেন তাঁরা। কিন্তু বহু বছর ধরে যেতে যেতে চোখের নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে তাঁদের। উপরে অসুবিধায় পড়লেও, নেমে এসে প্রায় কোনও দিনই চোখ দেখাননি তাঁরা। অথচ প্রতিটা অভিযান শেষ করার পরে চোখ পরীক্ষা (Eye Treatment) করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
এই জরুরি বিষয়টি বোঝানোর জন্যই দার্জিলিঙের কাছে আলুবাড়ি গ্রামে পৌঁছন ডক্টর বিশ্বাস। সেই গ্রামে অনেক শেরপা পরিবারের বাস। রয়েছেন ২৭ জন এমন শেরপা, যাঁরা এক বা একাধিক বার এভারেস্টের চুড়োও ছুঁয়েছেন। দফায় দফায় গিয়ে তাঁদের চোখ পরীক্ষা (Eye Treatment) করেন ডাক্তারবাবু।
সেই শেরপাদের চোখ পরীক্ষা করে দেখা যায়, তিনজন শেরপার রেটিনায় স্ট্রোক হয়ে গিয়েছে। অতিরিক্ত উচ্চতার কারণে চোখের ধমনী সরু হয়ে সেখানে রক্ত চলাচলও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দু’জন শেরপা জানিয়েছেন, এভারেস্ট থেকে ফেরার পথে হঠাৎ তাঁরা সাময়িকভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন অর্থাৎ স্নো ব্লাইন্ডনেসের শিকার হয়েছিলেন।
সবার সমস্যা বুঝে চিকিৎসা করেন ডক্টর কৌশিক বিশ্বাস। তিনি জানান, বরফে সূর্যালোক পড়ে অতিবেগুনি রশ্মির তীব্র ছটায় চোখ ধাঁধিয়ে যায়। চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলা হয় রেটিনা বার্ন। এই নিয়ে সচেতন (Eye Treatment) না হলে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলবেন বহু শেরপা।
বারুইপুরের অপহরণ মামলায় ৮ বছর পরে বেকসুর খালাস যুবক, ভালবাসার নজির গড়েছেন তাঁর প্রেমিকা