দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের আর পাঁচটা বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কের মতই বন্ধন ব্যাঙ্ক কোনও ঋণের কিস্তি মকুব করেনি। এ ব্যাপারে সোশাল মিডিয়ায় ছড়ানো কিছু ভুয়ো খবর পড়ে কেউ যাতে বিভ্রান্ত না হন সে জন্য বুধবার বিবৃতি দিয়ে গ্রাহকদের সর্তক করতে চাইল ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, বেশি সোশ্যাল পেজ এবং সোশ্যাল চ্যানেলের মাধ্যমে সাম্প্রতিক কালে এ ধরনের ভুয়ো খবর লাগাতার ভাবে ছড়ানো হয়েছে। সেই কারণেই গ্রাহকদের সতর্ক করতে চেয়েছে ব্যাঙ্ক।
দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সুনির্দিষ্ট মেয়াদের ঋণের উপরে তিন মাসের মোরাটোরিয়াম তথা স্থগিতাদেশের পরামর্শ দিয়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিকে। তার অর্থ ঋণের সহজ কিস্তি তিন মাস স্থগিত রাখা যেতে পারে। তাও সেই নিয়ম ব্যাঙ্কগুলির উপর চাপিয়ে দেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। বলা হয়েছিল, কোনও ঋণদায়ী সংস্থা গ্রাহকদের মোরাটোরিয়ামের সুবিধা দেবে কিনা তা তাদের বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। আবার সেই সুবিধা দিতে চাইলেন গ্রাহক তা নিতে চাইবে কিনা তা গ্রাহকের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল।
কারণ, মোরাটোরিয়ামের মেয়াদে কিস্তি না দিতে না হলেও মোট ঋণের উপর সুদ জমতে থাকবে, এবং পরে তা দিতে হবে। এ জন্য ঋণের মেয়াদ বেড়ে যেতে পারে। অর্থাৎ ঋণের টাকা আরও বেশি দিন ধরে শোধ দিতে হতে পারে। ফলে কোনও গ্রাহকের ঋণ পরিশোধ করার ক্ষমতা থাকলে তিনি কিস্তি দেওয়া স্থগিত রাখতে নাও চাইতে পারেন।
কিন্তু এই সহজ বিষয়টি নিয়েই বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট ছড়ানো শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়া। তারা প্রচার করতে থাকে, ঋণের কিস্তিই মকুব করা হয়েছে। কেউ বা দাবি করে এ ব্যাপারে আদালত নির্দেশ দিয়েছে ব্যাঙ্কগুলিকে।
অথচ বাস্তব হল, দেশের কোনও আদালতই ব্যাঙ্কগুলিকে এ ধরনের কোনও নির্দেশ দেয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ও এক শ্রেণির ভুঁইফোড় সোশাল চ্যানেলে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে দেওয়া ইদানীং মহা যন্ত্রণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে খবর এমন ভাবে ছড়ানো হচ্ছে যে বুঝে হোক বা না বুঝে— তা কোভিডের মতোই সংক্রামক হয়ে যাচ্ছে সমাজে। তাতে একে তো মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন, সেই সঙ্গে সংকটের মুহূর্তে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ক্ষতি হচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, অনিশ্চিত পরিবেশে মানুষকে কিছু স্বস্তি দিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক মোরাটোরিয়ামের পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু সুচিন্তিত ভাবেই ঋণ মকুবের কথা বলেনি। কারণ, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ও বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিতে সাধারণ মানুষের আমানত জমা রয়েছে। সেই আমানতের টাকা থেকেই ব্যাঙ্ক আবার ঋণ দেয়। সুতরাং ঋণের কিস্তি মকুব করে ব্যাঙ্কগুলির ক্ষতি হলে সাধারণ মানুষের আমানতই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
বন্ধন ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়েছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঋণের কিস্তি সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অভিযোগে কিছু সোশাল চ্যানেলের বিরুদ্ধে তারা আইনত ব্যবস্থা নিতে চলেছে। সেই সঙ্গে ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, যে সমস্ত ঋণগ্রহীতা ঋণ বা ঋণের কিস্তি সম্পর্কে বিশদে জানতে চান, তারা সরাসরি নিকটবর্তী শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।'