৪৮ ঘণ্টা হয়ে গেল, পশ্চিমবঙ্গে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে কোনও বুলেটিন বা আপডেট নেই
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণে নতুন কেউ আক্রান্ত হয়েছেন কিনা, হলেই বা কত জন হয়েছেন, কত জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, ইত্যাদি বিষয়ে গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর বা নবান্নের তরফে কোনও বুলেটিনই প্রকাশ করা হল না।
রাজ্
শেষ আপডেট: 1 May 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণে নতুন কেউ আক্রান্ত হয়েছেন কিনা, হলেই বা কত জন হয়েছেন, কত জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, ইত্যাদি বিষয়ে গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর বা নবান্নের তরফে কোনও বুলেটিনই প্রকাশ করা হল না।
রাজ্যের তরফে যেমন কোনও বুলেটিন প্রকাশ করা হয়নি। তেমনই গত দেড় দিন ধরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের আপডেটেও বাংলার পরিসংখ্যান একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। তা হল, এখনও পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭৯৫। আক্রান্তদের মধ্যে ১৩৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এবং দুর্ভাগ্যজনক ভাবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।
সাধারণ ধারণা হল, রাজ্যের থেকে তথ্য পাওয়ার পরই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বুলেটিনে তা আপডেট করা হয়। কারণ, সংবিধান অনুযায়ী ‘স্বাস্থ্য’ রাজ্যের বিষয়। কেন্দ্র একতরফা ভাবে এ ক্ষেত্রে কিছু করতে পারে না।
কিন্তু সেই প্রশাসনিক খুঁটিনাটি ও নিয়ম-নীতির ঊর্ধ্বে একটা বড় বিষয় হল, এই সংকটের পরিস্থিতিতে সরকারি ভাবে কোনও আপডেট গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে নেই। যা নিয়ে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে বলেই কারও কারও মত।
বস্তুত, গত প্রায় এক মাস ধরে মোটামুটি ভাবে এটাই রুটিনে বসে গিয়েছিল যে প্রতিদিন বিকেল চারটে বা পাঁচটা নাগাদ রাজ্যের মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা প্রেস কনফারেন্স করে কোভিড সংক্রান্ত আপডেট জানাতেন। এমনকী এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্ন থাকলে তার জবাবও দিয়েছেন তিনি। গত পরশু শেষ বার প্রেস কনফারেন্স করেছেন মুখ্য সচিব।
সে দিন তিনি বলেছিলেন, ১ মে শ্রমিক দিবস। সরকারি ছুটি। ওই দিন কোনও প্রেস কনফারেন্স তিনি করবেন না। তবে স্বাস্থ্য ভবন বুলেটিন প্রকাশ করবে। কিন্তু গতকাল ১ মে স্বাস্থ্য ভবন কোনও বুলেটিন প্রকাশ করেনি। স্বাস্থ্য দফতরের ওয়েবসাইট গত সন্ধ্যায় বিকল হয়েছিল। আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্বাস্থ্য দফতরের ওয়েবসাইটে কোনও বুলেটিন প্রকাশ করা হয়নি।
রাজ্য বা কেন্দ্র সরকার কোনও বুলেটিন প্রকাশ করলেই দ্য ওয়ালে সে ব্যাপারে আপডেট করা হবে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে করোনাভাইরাসের কত জন সংক্রামিত হয়েছেন সে ব্যাপারে শুক্রবার থেকে নতুন এক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সেই বিভ্রান্তির মূলে রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব প্রীতি সুদনকে পাঠানো রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি বিবেক কুমারের একটি চিঠি। যে চিঠির সঙ্গে যুক্ত একটি পত্রে বিবেক কুমার জানিয়েছিলেন, রাজ্যের ১৫টি জেলায় ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৯৩১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বাংলায় এতজন যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তা শুক্রবার মুখ্য সচিবের প্রেস কনফারেন্সেও প্রকাশ পায়নি। তার প্রতিফলন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক প্রকাশিত বুলেটিনে শুক্রবার ছিল না।
স্বাভাবিক ভাবেই ওই চিঠিকে সামনে রেখে বিরোধীরা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্য সরকার কি তথ্য গোপন করছিল? বেমক্কা ঝুলি থেকে কি বেড়াল বেরিয়ে পড়ল? এমনকি শনিবার সকালে সেই চিঠির প্রতিলিপি টুইট করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ও। বুলেটিন প্রকাশ করার জন্য রাজ্য সরকারকে বার্তা দিয়েছেন তিনিও। এও বলেছেন, এ ব্যাপারে সরকারের কাছে স্বচ্ছতার প্রত্যাশা রয়েছে সকলের।