দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে। কবে সাজা পাবে দোষীরা সেই আশায় দিন গুনছে গোটা দেশ। এদিকে দিল্লির তিহাড় জেলে চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষ আবার উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে দ্রুত দু’জন ফাঁসুড়ে চেয়ে পাঠিয়েছেন। সব মিলিয়ে তাই দোষীদের মৃত্য়ুদণ্ডের সম্ভাবনা আরও প্রবল হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আজ, শুক্রবার দিল্লির পাটিয়ালা হাউজ কোর্টে হাজির করানো হবে চার অপরাধী অক্ষয় ঠাকুর, মুকেশ সিংহ, বিনয় কুমার এবং পবন গুপ্তকে। নিরাপত্তার কথা ভেবে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সামনে আনা হবে অপরাধীদের।
২০১২ সালের গণধর্ষণ ও নারকীয় হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের দ্রুত ফাঁসির সাজা দেওয়া হোক এমন আবেদন জানিয়ে মামলা করেছিল নির্ভয়ার পরিবার। সেই মামলারই শুনানি আজ। এদিকে সাজা মকুবের আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ১৪ পাতার রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছে নির্ভয়া গণধর্ষণকাণ্ডের অন্যতম দোষী অক্ষয় ঠাকুর। আগামী ১৭ ডিসেম্বর সেই রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি শুনবে সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ।
দোষীদের মধ্যে বিনয় কুমার দিল্লি সরকার ও কেন্দ্রের কাছে প্রাণভিক্ষার আর্জি জানিয়েছিলেন। কিন্তু গত সপ্তাহে দু’পক্ষই তা খারিজ করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছে। অন্য দিকে সুপ্রিম কোর্টে ফাঁসির সাজা বহাল রাখার পর রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছিল তিন দোষী বিনয়, মুকেশ ও পবন। কিন্তু শীর্ষ আদালত সেই আর্জিও খারিজ করে দিয়েছে।

সাত বছর আগে ১৬ ডিসেম্বর এক ভয়াল রাতের সাক্ষী হয়েছিল রাজধানী দিল্লি। আগামী সোমবার ১৬ ডিসেম্বর, সেই ঘটনা সাত বছরে পড়বে। সাত বছর কেটে গেলেও বিচার পাননি তাঁর মেয়ে। দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আবেদন জানিয়েছেন নির্ভয়ার মা আশা দেবী। তিনি বলেছেন, "পাঁচজন নিষ্ঠুরের হাতে ধর্ষিতা হওয়ার পরে অসম্ভব যন্ত্রণা দিয়ে হত্য়া করা হয়েছিল তাঁর মেয়েকে। মামলা ক্রমাগত এই ভাবে চলতে থাকায় আমি ক্লান্ত। ধৈর্য শেষ হয়ে আসছে। মেয়ের খুনিরা শাস্তি না পাওয়া অবধি আমি শান্তি পাব না।"
এদিকে তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষ আবার উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে দ্রুত দু’জন ফাঁসুড়ে চেয়ে পাঠিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশের অতিরিক্ত ডিজি (জেল) আনন্দ কুমার বলেছেন, তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষের তরফে গত ৯ ডিসেম্বর করে ফ্যাক্স করে দু’জন ফাঁসুড়ে চেয়ে পাঠানো হয়েছে। কবে এই ফাঁসির সাজা কার্যকর হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাজধানী শহর দিল্লিতে গভীর রাতে ফাঁকা বাসে জোর করে তুলে নেওয়া হয় বছর কুড়ির এক তরুণীকে। মেডিক্যালের ওই ছাত্রীর উপর চলে অমানবিক অত্যাচার। নৃশংশতার সীমা পেরিয়ে ছ’জন মিলে তরুণীকে গণধর্ষণ করে। এই ঘটনায় ৫ অভিযুক্তের ফাঁসির আদেশ দেয় নিম্ন আদালত। আর এক দোষী অপরাধের সময় নাবালক হওয়ায় সর্বোচ্চ তিন বছর জেল খাটার পর ছাড়া পেয়ে যায়। জেলে থাকাকালীনই এক দোষী রাম সিং আত্মহত্যা করে। দিল্লি হাইকোর্টে ফাঁসির পরিবর্তে যাবজ্জীবন সাজার আর্জি জানায় বাকি তিন দোষী। দিল্লি হাইকোর্টে সেই আর্জি খারিজ হয়। পরে সুপ্রিম কোর্টেও খারিজ হয় এই আবেদন।