দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র চব্বিশ দিনের শিশুর হার্টে বেলুন কো-আর্ক্টোপ্লাস্টি সার্জারিতে এল সাফল্য। তার ওজনও অনেকের থেকেই অনেকটা কমও। মাত্র এক কেজি চারশ গ্রামের ফুটফুটে মেয়েটি আপাতত দিব্যি রয়েছে হাসপাতালের নার্স, ডাক্তারদের কাছে। মা-বাবাও কিছুটা স্বস্তিতে। গত চৌঠা জুলাই বর্ধমানের খণ্ডঘোষের বাসিন্দা প্রদীপ কুমার সাহার স্ত্রী বর্ধমানের একটি স্থানীয় হাসপাতালে শিশুকন্যাটির জন্ম দেন। জন্মানোর পর ওই হাসপাতালের ডাক্তাররা শিশুকন্যাটির ইকোকার্ডিওগ্রাফি করে দেখেন হৃদপিণ্ডের বাঁ দিক থেকে রক্তবহনকারী প্রধান ধমনীর জটিল কোনও সমস্যা রয়েছে। ভালো কোনও হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা না করালে, সমস্যা হবে বলে সেখানকার ডাক্তাররা প্রদীপ বাবু এবং তাঁর পরিবারকে জানিয়ে দেন। সে সময়েই দুর্গাপুর মিশন হাসপাতালের ডাক্তারদের সাথে কথা বলেন প্রদীপ বাবু। তাঁকে মিশন হাসপাতালের ডাক্তাররা জানিয়ে দেন, বাচ্চার হার্টের একটি ধমনী শুকিয়ে গিয়েছে। এই ধমনী দিয়ে শরীরের নানা অঙ্গে রক্ত সঞ্চালন হয়। বেলুন কো-আর্ক্টোপ্লাস্টি করতে হবে। নইলে বাচ্চাকে বাঁচানো যাবে না। ডাক্তারদের পরামর্শ মতো পরিবারের সদস্যরা বেলুন কো-আর্ক্টোপ্লাস্টি করার সম্মতি জানায়।
আপাতত সুস্থ মেয়েটিকে শুক্রবার হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে। কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে এই বিরল হার্ট সার্জারি করা হয়েছে। কারণ, ওর ওজন মাত্র এক কেজি চারশো গ্রাম। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এত কম ওজনের শিশুর হার্টে বেলুন কো-আর্ক্টোপ্লাস্টি করা খুব একটা সহজ নয়। তাঁদের দাবি, দেশের মধ্যে এত কম ওজনের মাত্র দু'তিনটি শিশুর হার্টে বেলুন কো-আর্ক্টোপ্লাস্টি করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতাল এই শিশুটির হার্টে সফল কো-আর্ক্টোপ্লাস্টি করে নজির গড়েছে।
শুনুন ডক্টর সত্যজিৎ বসু এই সার্জারি সম্পর্কে কী বললেন...
https://www.youtube.com/watch?v=2OkcDpSYWEU
পেড্রিয়াট্রিক কার্ডিয়োলজিস্ট ডাঃ হেমন্ত নায়েক এই শিশুর বেলুন কো-আর্ক্টোপ্লাস্টি করেন। এই হাসপাতালের বিশিষ্ট কার্ডিয়োলজিস্ট সত্যজিৎ বসুর সঙ্গে আলোচনা করে ডাঃ হেমন্ত নায়েক তাঁর সহকর্মী ডাঃ সুদীপ্ত ভট্টাচার্য ও ডাঃ সুরভীর সহযোগিতায় এই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করেন। সদ্যজাত শিশুদের জন্মগত রোগের চিকিৎসার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেড্রিয়াট্রিক কার্ডিয়োলজিস্টদের এই টিম দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালে এক কেজি চারশো গ্রামের এই শিশুর বিরল অপারেশনে সাফল্য পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশি। শিশুটি সুস্থ জীবন যাপন করলেও দশ বছর পর ফের শিশুটির হার্ট থেকে বেলুন বের করে সেখানে মেটাল স্টেন্ট বসাতে হবে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা। মিশন হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার পার্থ পাল বলেন, 'হার্টের চিকিৎসায় আমরা দেশের অগ্রগণ্য হাসপাতালগুলির মধ্যে অন্যতম। এখনও পর্যন্ত আমরা প্রায় দশ হাজার শিশুর হার্টের অপারেশন করেছি।' আপাতত এই মেয়েটির আগামী জীবন যাতে সুস্থ সুন্দর থাকে, সেই প্রার্থনাই করছেন সকলে।