নিজস্ব সংবাদদাতা: করোনা সতর্কতায় পড়ুয়াদের সরাসরি ক্লাশ নেওয়া বন্ধ করে দিল খড়্গপুর আইআইটি কর্তৃপক্ষ। অধ্যাপকদের জানিয়ে দেওয়া হল, কেবলমাত্র অনলাইন পদ্ধতিতেই নির্দিষ্ট ক্লাসগুলি নিতে হবে। আর পরবর্তী নির্দেশিকা জারি না হওয়া অবধি সমস্ত প্র্যাকটিকাল ক্লাশ বাতিল করে দেওয়া হল। শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সভার পরই আইআইটি কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশিকা জারি করে। তাতে বলা হয়েছে, শুধু আইআইটি নয়, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে কর্মীদের ছেলেমেয়েদের জন্য যে পাঁচটি বিদ্যালয় রয়েছে সেখানেও পঠনপাঠন বন্ধ রাখতে হবে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে আইআইটি খড়গপুর কর্তৃপক্ষ পরামর্শ দিয়েছে, আগামী ৩১ শে মার্চ অবধি ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে থাকা পড়ুয়া ও কর্মচারীরা পারতপক্ষে বাইরে যাবেন না। যদি ক্যাম্পাসের বাইরে যেতেই হয় সেক্ষেত্রে তাঁরা কেবলমাত্র নিজেদের বাড়িতেই যেতে পারবেন। উল্লেখ্য আইআইটি ক্যাম্পাসের মধ্যে এই ডজন খানেকেরও বেশি হোস্টেলে ১৩ হাজার ছাত্রছাত্রী থাকেন। অন্যদিকে অধ্যাপক ও কর্মী মিলিয়ে ১০ হাজার জন তাঁদের জন্য নির্ধারিত আবাসনে থাকেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, আইআইটির নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করবেন।
শ্রেণিক্ষের পঠনপাঠন অনলাইনে চালানো হলেও ল্যাবরেটরিগুলি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আইআইটি ক্যাম্পাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ অনুমোদিত হিজলি হাই স্কুল ছাড়াও আরও তিনটি বেসরকারি স্কুল রয়েছে। তাতে পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার। ওই বিদ্যালয়গুলিতে পঠনপাঠন স্থগিত রাখতে বলেছে আইআইটি কর্তৃপক্ষ। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা সময়সূচি অনুসারে হবে।
ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে জনসমাবেশও এই সময়ের মধ্যে স্থগিত থাকবে। সমস্ত সেমিনার, সম্মেলন এবং কর্মশালা পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। আইআইটি কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, সচেতনতা তৈরি করার জন্য আইআইটির বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি কাজ করবে। কোভিড -১৯ সংক্রান্ত বিভিন্ন পোষ্টার, ব্যানার ইত্যাদি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শিত হবে।