
শেষ আপডেট: 14 November 2022 07:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোটা দেশেই জাতীয় মহা-সড়ক ধরে যাতায়াতে এখন চড়া হারে টোল দিতে হয়। বেশিরভাগ রাজ্যও রাজ্যের মহা-সড়কে যাতায়াতে টোল আদায় করে (Collecting tolls on state highways)। ব্যতিক্রমী রাজ্যগুলির অন্যতম হল পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)। রাজ্য সরকারের তৈরি মহা-সড়কগুলিতে (Highway) টোল ছাড়াই যাতায়াত করা যায়। তবে সরকারের একাংশের ভাবনা বাস্তবায়িত হলে এই সব রাস্তাতেও আগামীদিনে টোল (Toll) গুনতে হতে পারে।
সরকারি সূত্রের খবর, রাজ্যের পূর্ত-সড়ক বিভাগ তাদের হাতে থাকা ১৮টি রাজ্য মহা-সড়কে টোল বসানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। আজ সোমবার এই বিষয়ে নবান্নে বৈঠকে বসার কথা দফতরের শীর্ষকর্তাদের।
পূর্ত দফতরের এক পদস্থ ই়ঞ্জিনিয়ারের কথায়, রাজ্য মহা-সড়কগুলি জাতীয় মহা-সড়কের তুলনায় স্বল্প দৈঘ্যের এবং তুলনামূলকভাবে কম চওড়া। কিন্তু রাস্তার গুণমান সমান। জাতীয় মহা-সড়কের মতো রাজ্য-মহাসড়ক নির্মাণেও ইন্ডিয়ান রোড কংগ্রেসের নির্ধারিত মান বজায় রাখা হয়। প্রতি কিলোমনিটারের নির্মাণ খরচও সমান। একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় দুই ক্ষেত্রেই। কিন্তু জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ বিপুল টাকা টোল বাবদ আদায় করে রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ করে, নতুন রাস্তা তৈরিতে বিনিয়োগ করে উদ্বৃত্ত অর্থ। রাজ্য মহা-সড়ক সেখানে পুরোটাই সরকারের বোঝা।
এক সরকারি কর্তা বলেন, কয়েকটি বাদে সব রাজ্যেই রাজ্যই রাজ্য-মহাসড়কে টোল আদায় করে থাকে। এরাজ্যে অতীতে একাধিকবার টোল বসানোর উদ্যোগ নিয়েও মাঝপথে থমকে যায়। টোল আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৬৪ সালের পশ্চিমবঙ্গ মহা-সড়ক আইন সংশোধনও করা হয় বছর কয়েক আগে। তারপরও টোল আদায়ের পথে হাঁটেনি বর্তমান সরকার।
ওই সরকারি কর্তা বলেন, টোল বসানোতে সম্মতি দেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনসাধারণের উপর আর্থিক চাপ বাড়াতে চাননি তিনি। তবে বিগত কয়েক বছরে পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। ওই আধিকারিকের কথায়, আমাদের ভাবনা হল, কৃষিবহুল এলাকাকে টোল মুক্ত রাখা। এছাড়া কারও টোল দিতে সমস্যা থাকলে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের সুযোগ আছে এখন। সর্বত্রই রাজ্য মহা-সড়কের সমান্তরাল রাস্তা আছে।
পূর্ত দফতরের ওই কর্তার কথায়, আজকের বৈঠকে দফতর টোল বসানোর প্রস্তাবে সায় দিলে তা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ করা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনি নেবেন। ফলে এখনই বলা সম্ভব নয় যে টোল বসছেই। বিষয়টি ভাবনাচিন্তার পর্যায়ে আছে।