দ্য ওয়াল ব্যুরো: জামার বোতাম খোলা। গলায় ঝুলছে গাদা খানেক হার-চেন-লকেট। সঙ্গে ডেনিম ব্লু জিনস। কপালে টকটকে লাল তিলক কেটে এক পা মাটিতে রেখে বুলেটের উপর বসে আছেন সইফ আলি খান। সিনেমার নাম ‘বুলেট রাজা।’
এ বার রাজ্যের ২৯৪ টি বিধানসভা এবং ৪২ টি লোকসভা কেন্দ্রে দেখা যাবে ৩৫০ ‘বুলেট রাজা’কে। যাঁদের টার্গেট, ঘাসফুল জলে ফেলে বাংলার জমিতে পদ্ম ফোটানো। রাজ্যের সবকটি বিধানসভা এবং লোকসভা কেন্দ্রে সাংগঠনিক পর্যবেক্ষকদের (যাঁদের পোশাকি নাম সবিস্তারক) বুলেট দিচ্ছে বিজেপি। । তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ফিল্ডে বিজেপির ঘোড়া ‘রয়্যাল এনফিল্ড।’
দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ দু’দিনের বাংলা সফরের প্রথম দিনই রাজ্য নেতাদের বলে দিয়েছেন, ‘লড়েঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে।’ বেঁধে দিয়েছেন আসন জেতার টার্গেট। এর আগেরবার এসে রাজ্য নেতারা যখন তৃণমূলের সন্ত্রাস নিয়ে নালিশ করতে গিয়েছিলেন সভাপতির কাছে তখন স্পষ্ট অমিত জানিয়েছিলেন, ‘কাঁদুনি গেয়ে লাভ নেই। তৃণমূলকে ঠেকাতে গেলে যা করতে হয় তাই করতে হবে।’
সভাপতির কাছে অক্সিজেন পেয়ে চাঙ্গা দিলীপ ঘোষ নেমে পড়েন ময়দানে। দাবাং স্টাইল নিয়ে বাকযুদ্ধে সমানে সমানে টক্কর দিয়েছেন কেষ্ট মণ্ডলদের। তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ তথা অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর সিনেমার ডায়লগের কাছাকাছি পৌঁছে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শ্মশানে পাঠানোর কথা বলেছিলেন। কখনও বা বলেছেন এনকাউন্টার করিয়ে দেবেন।
কিন্তু ‘অর্জুন’ অমিত শাহের পাখির চোখ লোকসভা। তিনি জানেন, শুধু মাইক ফুঁকে এসব বললে হবে না। ময়দানের সংগঠনটাই শেষ কথা। আর তাই লোকসভার আগে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা খরচ করে ৩৫০ রয়্যাল এনফিল্ড কিনছে বিজেপি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে বুলেট কেন?
বিজেপি’র একটা অংশ বলছে, আওয়াজটাই শেষ কথা। গ্ল্যামার, ওজন, গতি সবেতেই অন্য সব বাইককে বলে বলে গোল দেবে বুলেট। সর্বভারতীয় সভাপতি ‘জান বাজি’ রাখার ডাক দিয়েছেন বাংলার কর্মীদের কাছে। গতকাল হাওড়ার শরৎ সদনে প্রায় ৬০০ সোশ্যাল মিডিয়ায় পারদর্শী কর্মীদের নিয়ে কর্মশালা করেছেন অমিত শাহ। সেই সঙ্গে ময়দানে কাজ করার জন্য এই বুলেট কেনার কথা বলেছেন তিনি। ফেসবুক থেকে ফেস বুথ দুটোই যে সমান্তরালভাবে গেরুয়াবাহিনী চালিয়ে নিয়ে যেতে চায় এবং লোকসভার আগে সেই গতিকে সিক্সথ গিয়ার অবধি তুলতে চায় তা বুঝিয়ে দিয়েছেন শাহ।
শুধু বুলেট কেনা নয়। লোকসভার আগে ঠিকানা বদলাতে পারে বিজেপি’র রাজ্য দফতরেরও। সর্বভারতীয় নেতৃত্ব দিলীপ ঘোষ- রাহুল সিনহাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মূরলীধর সেন লেনের এই বাড়ি থেকে লোকসভার কাজ হবে না। বিজেপি সূত্রের খবর, পুজোর আগেই ওই চত্বরে আড়ে বহরে বিরাট একটি অফিস ভাড়া নিতে পারে বিজেপি।
তৃণমূল প্রশ্ন তুলছে বিজেপি’র টাকার উৎস নিয়ে। বিজেপি অবশ্য শাসক দলের এই প্রশ্ন এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দিচ্ছে।
রকিং লুকের সইফ আলি খানের বুলেট রাজার পোস্টার যতটা সাড়া ফেলেছিল, বক্স অফিসে ততটা বাণিজ্য আসেনি। এখন দেখার বিজেপি’র বুলেট রাজারা লোকসভার ব্যালট বাক্সে কতটা লাভের মুখ দেখেন।