দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপি-র সাম্প্রদায়িকতা খেলার মাঠকেও বাদ দিচ্ছে না বলে অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গেরুয়া শিবিরের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির জন্য এ দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা শিকেয় উঠেছে। এই অভিযোগ বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর নতুন নয়। সোমবার নেতাজি ইনডোরে খেলাশ্রী পুরস্কার দেওয়ার মঞ্চে সেই অভিযোগ ফের তুললেন তিনি।
এ দিন মমতা বলেন, “এই যে মঞ্চে গুরবক্স সিং বসে আছেন। আমরা কি কখনও জানতে চেয়েছি, তিনি শিখ না বাঙালি? দিব্যেন্দু বড়ুয়াকে কেউ কখনও জিজ্ঞেস করেছে, তুমি বাংলার না অসমের? নাকি শ্যাম থাপাকে কেউ প্রশ্ন করেছে আপনি পাহাড়ের না সমতলের? সব জায়গায় এই বিভেদ করতে চাইছে ওরা (পড়ুন বিজেপি)। খেলার মাঠকেও বাদ দিচ্ছে না।”
রাজ্য সরকারের উদ্যোগে প্রতিবারের মতো এ বারও খেলাশ্রী সম্মান দেওয়া হয় ৮১ জন খেলোয়াড়কে। ওই অনুষ্ঠানেই মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বাম জমানার থেকে এই সরকার ক্রীড়া ক্ষেত্রে সাত গুণ বরাদ্দ বাড়িয়েছে। মমতা আরও বলেন, “নোটবন্দি, জিএসটি-র মতো সিদ্ধান্তে ক্রীড়া জগৎও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভোট এলেই স্পন্সর নিয়ে কিছু লোক আসে। ভোট ফুরোলেই সবটা ঝুলিয়ে চলে যায়।” ঠারেঠোরে দিদি এ দিন বলার চেষ্টা করেন, সমস্ত সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে বিজেপি দখল করার চেষ্টা করছে। হুঁশিয়ারির সুরেই মমতা বলেন, “যদি কেউ ভাবে গায়ের জোরে সমস্ত মেশিনারি দখল করবে, তাহলে সেটা কিছুতেই হতে দেব না।”
মোবাইল থেকে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট, সম্পত্তি থেকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, কিছুই আর নিরাপদ নেই বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। নাগরিক সংশোধনী বিল নিয়ে প্রথম থেকেই সরব তৃণমূলনেত্রী। অসমের এনআরসি নিয়ে তিনি বারবার অভিযোগ তুলেছেন, বিজেপি বাংলা ও বাঙালি-বিরোধী। এ দিন সেই প্রসঙ্গ তুলেই মমতা বলেন, “এখন যদি কেউ বলেন আমার মায়ের জন্ম সার্টিফিকেট আনতে, আমি পারব না। কারণ সেই সময়ে এ সব ছিল না। আমি তো বইতে লিখেছি যেটা আমার সরকারি জন্মদিন সেটা আসল নয়। আমি মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, মা আমি কবে জন্মেছিলাম? মা বলেছিলেন দুর্গাপুজোর অষ্টমীতে।” বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা হিসেবে এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর দাদাও ছিলেন ওই অনুষ্ঠানে। তাঁর কথা উল্লেখ করে মমতা বলেন, “আমার দাদা তো আমার থেকে কত বড়। একদিন এসে আমায় বলল, জানিস সার্টিফিকেটে আমি তোর থেকে মাত্র ছ’মাসের বড়। আমি আবার বললাম, দেখ তো দেখি! বাবা-মা কী কাজ করে রেখেছে।” মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “তখন এ ভাবেই হতো। এত সিস্টেমেটিক ছিল না। সেই দেখিয়ে যদি কেউ বলে তুমি নাগরিক নও তাহলে কে শুনবে।”
রাজ্যের ২৪ হাজার ক্লাবকে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনিতে ক্লাবকে টাকা দেওয়া নিয়ে বিরোধীরা কম কথা বলে না। আবদুল মান্নান, সুজন চক্রবর্তীরা সুযোগ পেলেই বিধানসভার ভিতরে, বাইরে বলেন, দান খয়রাতির সরকার চলছে। ক্লাবকে টাকা দিয়ে ছেলেপুলে হাতে রাখার ছক। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী যে ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য এই ধারা আগামী দিনেও বজায় রাখবেন, তা আরও একবার স্পষ্ট করে দেন এ দিন।
যদিও বিজেপি-র এক নেতা বলেন, “বাংলার মানুষ জানে মুখ্যমন্ত্রী কেন ক্লাবগুলিকে টাকা দেন। যাতে ওই সব ছেলেদের দিয়ে ভোটের সময় ভোট লুঠ করানো যায়। কিন্তু লোকসভা ভোটের সময়ে ওসব করেও কিস্যু লাভ হবে না।”