দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি: নির্বাচন এগিয়ে আসতেই তেতে উঠছে পাহাড়ের রাজনীতি। ২০ ডিসেম্বর দার্জিলিংয়ের চকবাজারে সভার ডাক দিয়েছেন বিমল গুরুং। মাঝের কয়েক বছরের অনুপস্থিতির পর এটাই পাহাড়ে তাঁর প্রথম সভা। স্বাভাবিক ভাবেই ঔৎসুক্য বাড়ছে মানুষের। রবিবার শিলিগুড়ি লাগোয়া সুকনাতে সভা করেছেন বিনয় তামাং, অনিত থাপারা। একই দিনে ডুয়ার্সে সভা করেছেন গুরুং। এই সভার আঁচও পৌঁছেছে পাহাড়ে।
রবিবার শুকনা থেকে পাহাড়ে শান্তি বজায় রাখার ডাক দিয়েছেন বিনয় তামাং। অন্যদিকে ডুয়ার্সে সভা করে বিজেপিকে হারিয়ে তৃণমূলকে জেতানোর আবেদন রেখেছেন বিমল। কেউ যে কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে দিতে নারাজ তা দু’পক্ষের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার। ফলে বিমল পাহাড়ে উঠলে অশান্তির আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না রাজনৈতিক মহল। তাই ২০ ডিসেম্বর এর সভা ঘিরে পারদ চড়ছে পাহাড়ে।
বিমলের আপাতত কৌশল, রাজ্য সরকারকে তুষ্ট রেখে পাহাড়ে আবার নিজের রাজ্যপাট ফিরে পাওয়া। অন্যদিকে নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে মরিয়া বিনয় তামাংরাও। সুকনার সভা থেকে অনিত থাপা জানিয়েছেন, পাহাড়ের যে কেউই আসতে পারেন তবে পাহাড়কে কখনই তাঁরা আর উত্তপ্ত হতে দেবেন না। বিনয় শিবিরের নেতা প্রকাশ গুরুং, স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাজ্যকে সঙ্গে নিয়ে তারা গোর্খাল্যান্ডের দাবি আদায়ে কেন্দ্রকে চাপ দেবেন।
অন্যদিকে বিমল শিবির আপাতত মেপে পদক্ষেপ করতে চাইছে। বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যকে সমর্থন করে নিজের ওপর মামলার বোঝা হ্রাস করার পথে হাঁটতে চাইছেন বিমল। তবে দীর্ঘস্থায়ী লক্ষ্য হিসেবে ২০২৪ সালের লোকসভায় কাকে সমর্থন করবেন তা স্পষ্ট করছেন না। তিনি বলছেন, ‘‘যারা গোর্খাল্যান্ডকে সমর্থন করবে তাদের দিকেই আমাদের সমর্থন থাকবে।’’ অর্থাৎ আপাতত বিজেপির বিরোধিতা করলেও ২০২৪ এ ফের বিজেপির সঙ্গে যাওয়ার রাস্তাও খোলা রাখতে চাইছেন তিনি। তবে পাহাড়বাসীর আশঙ্কা, এই দুই নেতার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খার মাসুল না গুনতে হয় পাহাড়ের সাধারণ মানুষকে!