দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ট্রাক্টর চুরি চক্রের তদন্তে নেমে আরও একজন দুষ্কৃতিকে গ্রেফতার করল পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার পুলিশ। ধৃতকে সঙ্গে নিয়ে নতুন করে কিছু জায়গায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। ধৃত ব্যক্তির দেখিয়ে দেওয়া জায়গা থেকে আরও ৫টি চুরি যাওয়া ট্রাক্টর উদ্ধার হয়েছে বলে জানা যায়। এই নিয়ে ধৃত তিন দুষ্কৃতিকে জেরা করে মোট ১০টি চোরাই ট্রাক্টর উদ্ধার করা হল।
ধৃতের নাম মহম্মদ জিশান খান। উত্তর প্রদেশের কোতোয়ালি থানার মুজাফ্ফর নগরে তার আদি বাড়ি। বর্তমানে সে বর্ধমান শহরের বাহিরসর্বমঙ্গলাপাড়ায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। পুলিশি হেফাজতে থাকা শেখ আলি হোসেন ও শেখ আজহারউদ্দিনকে নিয়ে রবিবার রাতে তার ভাড়াবাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। জেরায় ট্রাক্টর চুরিতে জড়িত থাকার কথা কবুল করেছে এই ব্যক্তি।
গত ১৯ শে সেপ্টেম্বর শনিবার গভীর রাতে মেমারি থানার দেবীপুর থেকে ২টি চোরাই ট্রাক্টর সহ আলি হোসেন ও আজহার নামক দুজন দুষ্কৃতিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নদিয়া থেকে ট্রাক্টর দু’টি চুরি করে আনছিল এই দু'জন। তাদের সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে আলি হোসেনের গ্যারেজ থেকে আরও ৩টি চোরাই ট্রাক্টর উদ্ধার হয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে ট্রাক্টর চুরি করে নম্বর প্লেট, ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর বদলে সেগুলোকে গোপনে অন্যত্র বিক্রি করাই ছিল তাদের কাজ।
সোমবার ২১শে সেপ্টেম্বর ধৃত মহম্মদ জিশান খানকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। তার আগেই ধৃত তিনজনকে নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে বর্ধমান থানার চাণ্ডুলে একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পিছন থেকে আরও ৫টি চোরাই ট্রাক্টর উদ্ধার করে পুলিশ। ধৃতদের জেরা করে আগামীতে আরও বেশ কিছু চোরাই ট্রাক্টর উদ্ধার করা যেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তদন্তের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং চক্রের বাকিদের হদিশ পেতে ধৃতকে ৪ দিন পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম।
আগের দিন রবিবার বর্ধমান আদালতে পেশ করা হলে আলি হোসেন এবং আজহারকেও ৫ দিন পুলিসি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ট্রাক্টর চুরিতে জিশানের জড়িত থাকার কথা জানতে পারে পুলিশ। তারপরই সোমবার জিশানের খোঁজে নতুন করে অভিযান চালায় মেমরি থানার পুলিশ। এই ঘটনায় বেআইনি গাড়ি চুরির ব্যাপারে আবার বড়রকমের সাফল্যের মুখ দেখল বর্ধমানের পুলিশ প্রশাসন, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট লোকজন।