
শেষ আপডেট: 28 September 2022 14:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: গুলি চালিয়ে চোরা শিকারের (poaching) অভিযোগে গ্রেফতার (arrest) হল ডুয়ার্সের (Dooars) এক তৃণমূল (TMC) নেতা-সহ মোট তিন জন। মঙ্গলবার গভীর রাতে কলাবাড়ি এলাকা থেকে এই তিনজনকে গ্রেফতার করে বন দফতর। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি বন্দুক ও আট রাউন্ড কার্তুজ। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার নাম মোহন লাল ওঁরাও।

এদিকে, মোহন লাল গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক কচকচানি শুরু হয়েছে ডুয়ার্সে। যদিও নিজের ঘাড় থেকে দায় ঝেড়ে ফেলতে ধৃতকে বিজেপি নেতা বলেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে বিজেপির দাবি, মোহন লাল নয়, তার মেয়ে বিজেপি নেত্রী। কিন্তু মোহন লাল তৃণমূলই করেন। শেষে ধৃত বলেন যে, আগে তিনি সিপিএম করতেন। তবে এখন দল বদলে তৃণমূলে এসেছেন।

বন দফতর সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে নাথুয়া রেঞ্জের জঙ্গলে টিম নিয়ে টহলদারি দিচ্ছিলেন রেঞ্জ অফিসার ও বনকর্মীরা। আচমকা তাঁরা জঙ্গলের ভেতর গুলির শব্দ শুনতে পান। এরপর তড়িঘড়ি সেইদিকে যাওয়ার পর তিনজনের দেখা মেলে। সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে ধরে ফেলেন বনকর্মীরা। এরপর তল্লাশি করতেই দেখা যায়, তৃণমূল নেতা মোহন লাল ওঁরাওয়ের কাছে রয়েছে একটি দো-নলা বন্দুক ও আট রাউন্ড তাজা কার্তুজ। ধৃতদের বুধবার আদালতে তোলা হয়।
ঘটনায় ধূপগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ সিং দাবি করেন, ধৃত মোহন লাল ওঁরাও বিজেপি নেতা। সে চোরা শিকারের উদ্দেশ্য নিয়ে জঙ্গলের ভিতরে গিয়েছিল। বিজেপি নেতারা বছরভর এইসব অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকে। অপরদিকে বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামী বলেন, মোহন লাল ওঁরাওয়ের মেয়ে পুনিতা ওঁরাও বিজেপি নেত্রী। কিন্তু মোহন লাল ওই এলাকার নাম করা তৃণমূল নেতা। তার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগাযোগই নেই। তৃণমূল মিথ্যা অভিযোগ করে বিজেপির বদনাম করতে চাইছে।
দুই রাজনৈতিক দলের দড়ি টানাটানি নিয়ে শেষে ধৃত মোহন লাল ওঁরাও নিজেই জানায় যে, এই বন্দুকের লাইসেন্স অনেক আগে থেকেই তার কাছে রয়েছে। বাড়িতে বাচ্চারা আছে তাই বন্দুক সঙ্গে নিয়েই বেরিয়েছিল সে। মঙ্গলবার রাতে জঙ্গলের পাশ দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় অসাবধানতাবশত হাত লেগে গুলি চলে যায়। আগে সিপিএম করলেও এখন সে মমতার দলেই আছে।
ভাসানের জন্য পুজো অনুদানের টাকা চেয়েও পিছু হটল কোন্নগর পুরসভা