দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত দেড়-দু'সপ্তাহ ধরেই বাংলায় কোভিড আক্রান্তদের সুস্থ হওয়ার সংখ্যা আক্রান্তের তুলনায় বেশি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত স্বাস্থ্য ভবনের বুলেটিন জানাচ্ছে, সেই ধারা অব্যাহত। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭০ জন। সেরে উঠেছেন ৫৩১ জন। মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের।
এদিনের বুলেটিন অনুযায়ী রাজ্যে কোভিড আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭২৮ জন। সেরে উঠেছেন ৯ হাজার ২১৮ জন। এই মুহূর্তে কোভিড-১৯ সক্রিয় রয়েছে চার হাজার ৯৩০ জনের শরীরে। বাংলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫৮০ জনের।
কলকাতা ও আশপাশের জেলা
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের জেলাগুলির মধ্যে করোনা সংক্রমণের শীর্ষে কলকাতাই। শহরের মোট ৮১ জন কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। সেই তুলনায় সুস্থ হয়ে ওঠার হারটাও অনেকটাই বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় মহানগরের ২০৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তা ছাড়া হাওড়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯ জন, হুগলিতে মাত্র পাঁচ জন, উত্তর ২৪ পরগনায় ৫৫ জন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২৮ জন।

উত্তরবঙ্গ
উত্তর বাংলার জেলাগুলির মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় দুটি জেলায় নতুন সংক্রামিতর হদিশ মেলেনি। সেই দুটি জেলা হল কোচবিহার এবং কালিম্পং। আলিপুরদুয়ারে আক্রান্ত হয়েছেন এক জন। এছাড়া দার্জিলিংয়ে ১৯ জন, জলপাইগুড়িতে ১৬ জন উত্তরদিনাজপুরে ১৩ জন, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৩৬ জন কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন।
জঙ্গলমহল
রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের চার জেলায় গত কয়েকদিন ধরে সংক্রমণের হার কম। গত ২৪ ঘণ্টায় পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামে এক জনের শরীরেও নভেল করোনাভাইরাস মেলেনি। বাঁকুড়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ জন এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে তিন জন। ঝাড়গ্রাম জেলায় এখন করোনা অ্যাকটিভের সংখ্যা শূন্য।
এদিনের বুলেটিন অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ন'হাজার ৪২৪টি। বাংলায় মোট স্যাম্পল টেস্ট হয়েছে চার লক্ষ ২০ হাজার ২৭৭টি।

কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে এর মধ্যে অনেকগুলি সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। কোন হাসপাতালে কত বেড খালি আছে তার আপডেট ঘণ্টায় ঘণ্টায় দেওয়া হচ্ছে এগিয়ে বাংলা ওয়েবসাইটে। তা ছাড়া রাজ্য সরকারের তরফে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে বলা হয়েছে, বেড সংখ্যা হাসপাতালের বাইরে ডিসপ্লে করতে। আগামী কাল, বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন। সেখানে কী আলোচনা হয়, সংক্রমণ রুখতে কী নতুন কী পদক্ষেপ ঘোষণা করে নবান্ন সেদিকে চোখ রয়েছে সকলের।