দ্য ওয়াল ব্যুরো : পুলিশের জালে খাগড়াগড় কাণ্ডের অন্যতম দুই অভিযুক্ত। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আরামবাগ থানার বড়োডোঙ্গল গ্রাম থেকে সোমবার গভীর রাতে তাদের গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা। ধৃতদের নাম কদর কাজি ও সাজ্জাদ আলি।
২০১৪ সালের দোসরা অক্টোবর বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল বর্ধমানের খাগড়াগড়। প্রথমে সিআইডি এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে। পরে ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ১০ অক্টোবর এই বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তভার এনআইএ -র হাতে তুলে দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তদন্তে গতি আনতে মূল অভিযুক্তদের সম্পর্কে তথ্য দিতে পারলে ৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করা হয়।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর এই মামলায় ধৃত জামাত জঙ্গী কওসরকে জেরা করেই কদর ও সাজ্জাদের নাম জানতে পারেন তাঁরা। এরপরেই চলছিল তাঁদের খোঁজ। কিন্তু প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে কদর ও সাজ্জাদ দক্ষিণ ভারতে গা ঢাকা দিয়েছিল। কিছু দিন আগে আরামবাগের বড়োডোঙ্গল গ্রামে আস্তানা গেড়েছিল তারা। এখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করতো দুজন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার গভীর রাতে পুলিশ ও এনআইএ বড়োডোঙ্গল গ্রামে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের পাকড়াও করে। । দুজনের কাছ থেকে বেশ কিছু কাগজ উদ্ধার হয়েছে যাতে তাদের ভুয়ো নাম, আধার নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলে গোয়েন্দাদের দাবি।
জানা গেছে, কদর কাজি বীরভূমের নানুর থানার নিমরার বাসিন্দা। সাজ্জাদ মুর্শিদাবাদের কান্দির বাসিন্দা । তবে কদর কাজির মা সরিফা বিবির দাবি ৫ বছর ধরে তাদের সাথে কোনও যোগাযোগ ছিল না ছেলের। তিনি যোগাযোগের চেষ্টাও করেননি। তাঁর কথায়, ‘‘ ৫বছর ধরে আমাদের সাথে ওর কোনও যোগাযোগ নেই। ও কি সত্যি দোষী না ওকে ফাঁসানো হয়েছে কিছুই জানি না।"
আরামবাগের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে ঘাঁটি গেড়ে তারা ফের কোনও নাশকতার ছক করছিল কি না তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।