দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া : বাকসাড়া শ্যুট আউট কাণ্ডের ব্রেক থ্রু করলেন গোয়েন্দারা। জানালেন, প্রেসিডেন্সি জেলে বসেই খুনের চক্রান্ত করা হয়েছিল বাকসাড়ার যুবক নিমাই দেকে। এর জন্য ভাড়াটে খুনিদের ৫০ হাজার টাকাও দেওয়া হয়। গুলি লাগলেও কোনও মতে প্রাণে বেঁচে যান নিমাই। ১৩ দিনের মাথায় আজ ওই ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করলেন হাওড়ার ডিসি ডিডি সুনীল যাদব।
গত ১৪ জুলাই, বাজার করে ফেরার সময় বাকসাড়া গ্রিন পার্ক এলাকায় নিমাইকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। বাইকে আসা দুষ্কৃতীদের গুলি মাথা ছুঁয়ে চলে যায় তাঁর। জখম হন নিমাই। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। প্রাণে বেঁচে যান তিনি। ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় অরুণ সাহা ওরফে বুচা নামে এক দুষ্কৃতীকে। তাকে জেরা করেই পুলিশ জানতে পারে হাওড়ার দুই কুখ্যাত দুষ্কৃতী অর্ঘ্য কর্মকার ওরফে ফেলু ও শেখ আশিক ওরফে পাপ্পু জেলে থেকেই তাদের পথের কাঁটা নিমাইকে সরিয়ে দেবার পরিকল্পনা করেছিল। সেই মতোই সদ্য জেল থেকে ছাড়া পাওয়া দুই দুষ্কৃতী শেখ আজাদ ও বিশ্বজিৎ দাস ওরফে বাবুকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে নিমাইকে খুনের সুপারি দেয়।
সুনীল যাদব জানান, নিমাইও একসময় অপরাধমূলক কাজকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল। বর্তমানে বিভিন্ন প্রোমোটারকে ফ্ল্যাট তৈরির সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ফেলু বাহিনী এই সব প্রোমোটারের কাছে তোলা আদায় করতে গেলে বাধা হয়ে দাঁড়াত নিমাই। সেজন্যই নিমাইকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কযেছিল ফেলু। গতরাতে আজাদ ও বাবুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পাপ্পুকেও জেল থেকে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি বলেন, “জেলে বসেই এই খুনের ছক হয়েছিল সে খবর ছিল আমাদের কাছে। তদন্তের জাল গুটিয়ে আনার চেষ্টা করছিলাম আমরা।”
জেলে বসেই খুনের ছক। অথচ গোয়েন্দাদের নেটওর্য়াক কেন কাজ করল না? সে প্রশ্নের উত্তর অবশ্য এড়িয়ে যান তিনি।