দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: বিস্কুটের পেটিতে লুকিয়েও শেষরক্ষা হল না। ভুটান থেকে বাংলাদেশ পাচারের পথে বনদফতরের পাতা ফাঁদে ধরা পড়ল পাঁচ পাচারকারী। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি প্যাঙ্গোলিন। আন্তর্জাতিক বাজারে যার দাম প্রায় ছ’লক্ষ টাকা।
চলতি বছরে দু’দফায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের চামড়া, চিতাবাঘের চামড়া ও হাতির দাঁত পাচার করতে গিয়ে টাস্কফোর্সের হাতে ধরা পড়েছে বেশ কয়েকজন ভুটানের নাগরিক। বন্যপ্রাণী ও প্রাণী দেহাংশ পাচারে ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে ভুটানিদের নামের তালিকা।
বুধবার টাস্কফোর্সের প্রধান সঞ্জয় দত্তর কাছে খবর আসে পাচারকারীদের একটি দল ৬ লক্ষ টাকায় একটি প্যাঙ্গোলিন বিক্রি করবে। ভুটান থেকে নাগরাকাটা হয়ে শিলিগুড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সেখান থেকেই প্যাঙ্গোলিনটিকে বাংলাদেশে পাচার করা হবে। এরপরএই নাগরাকাটায় অপেক্ষা করে ওই নির্দিষ্ট নম্বরের গাড়িটিকে আটক করে বনদফতর।
সঞ্জয় দত্ত বলেন, নাগরাকাটাতে ভুটানের নম্বরের ওই গাড়িতেই বিস্কুটের পেটিতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল প্যাঙ্গোলিনটি। পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা জেরায় জানিয়েছে, ৬ লক্ষ টাকায় বাংলাদেশে পাচারের কথা ছিল প্রাণীটিকে। বৃহস্পতিবার ধৃতদের আদালতে তোলা হয়। বন দফতরের গাড়িতে থাকা প্যাঙ্গোলিনটিকে দেখতে জলপাইগুড়ি আদালতে উপচে পড়ে ভিড়।
বনরুই নামেও পরিচিত প্যাঙ্গোলিন। আঁশযুক্ত শরীর ও গঠন অনেকটা মাছের মতো। পিঁপড়ে খেয়ে বেঁচে থাকে। এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে দেখতে পাওয়া যায় প্যাঙ্গোলিন। বনদফতরসূত্রে জানা গেছে, বিপদের আভাস পেলেই নিজেদের গুটিয়ে নেয় বলে মালয় ভাষায় এদের বলা হয় পেঙ্গুলিং। সেখান থেকেই এসেছে ইংরেজি নাম প্যাঙ্গোলিন।