দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ দিনাজপুর: জেলা পরিষদ সদস্যদের একাংশের সঙ্গে তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতির গোপন বৈঠকের খবরে জেলাপরিষদের বোর্ড ভাঙার জল্পনা শুরু হয়ে গেছে দক্ষিণ দিনাজপুরে। গঙ্গারামপুরে দুদিন ধরে এই বৈঠক হয় বলে জানা গেছে। তবে শাসক শিবিরের অনেকের মত, দলের মধ্যে কোনঠাসা হয়ে থাকা বিপ্লব মিত্র ঘর গুছিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
২০১৮ র পঞ্চায়েত ভোটে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের ১৮ টি আসনেই জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বোর্ড গঠন করে তৃণমূল। বিরোধী শূন্য এই জেলা পরিষদে সভাধিপতি লিপিকা রায় থেকে শুরু করে অন্যান্য অধিকাংশ কর্মাধ্যক্ষ ও সদস্য সকলেই বিপ্লব মিত্রের অনুগামী বলেই পরিচিত। তাই বিপ্লব মিত্রকে জেলা তৃণমূল সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়াটা মেনে নিতে পারেনি তাঁরা। জেলা পরিষদ সদস্যদের এই অংশ বর্তমান তৃণমূল জেলা সভাপতি অর্পিতা ঘোষের বিরোধী হিসেবেই পরিচিত। সম্প্রতি দলের জেলা সভাপতি অর্পিতার ডাকা বৈঠকে এঁদের অনুপস্থিতি নজর কেড়েছে অনেকেরই।
বিপ্লব মিত্রর সঙ্গে জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা রায় এবং অন্যান্য সদস্যদের যোগাযোগ কারও অজানা নয়। কিন্তু গত দুদিন ধরে তাঁদের বৈঠকের খবরে কপালে ভাঁজ পড়েছে দলের অনেক নেতারই। প্রয়োজনে তিনি ওই সদস্যদের দিয়ে অনাস্থা এনে জেলা পরিষদে থাকা তৃণমূলের বোর্ড ভাঙতে পারেন বলেই মনে করছে অনেকে। আবার একাংশের মত, ধীরে চলো পন্থা নিয়ে ঘর গুছিয়ে রাখছেন বিপ্লব।
তবে বিপ্লববাবু বলেন “আমি তৃণমূলেই আছি। বিজেপিতে যাওয়ার কথা ভাবিনি। আর জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সদস্যরা আমার খোঁজ খবর নিতে, বা আমার সঙ্গে দেখা করতে আসতেই পারেন।”
আর তৃণমূল জেলা সভাপতি অর্পিতা ঘোষ বলেন, “দলে থেকে এই ধরনের কাজ না করে তাঁরা দল ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে পারেন। পুরো বিষয়টি দলের উচ্চ পর্যায়ে জানাবো আমি।”
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিজেপি সভাপতি শুভেন্দু সরকার বলেন, “কে কোথায় বৈঠক করছেন বা গোপনে যোগাযোগ রাখছেন তা নিয়ে মাথা ব্যথা নেই আমাদের। তবে বিপ্লব মিত্র বা তার কেউ বিজেপিতে আসবে বলে জানা নেই।”
এ বারের লোকসভা ভোটে বালুরঘাট আসনে বিজেপির কাছে পরাজিত হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ। এই পরাজয়ের পেছনে তৎকালীন তৃণমূল জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্রের হাত ছিল বলে তৃণমূলের একাংশের দাবি। কেন না অর্পিতাকে প্রার্থী করা নিয়ে প্রথম থেকেই বিরোধিতা করতে দেখা গেছিল বিপ্লব ও তার অনুগামীদের। ফলাফল খারাপ হতেই অর্পিতার পরাজয়ের দায়ভার বর্তায় বিপ্লব মিত্রর উপর। জেলা সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। পরাজিত প্রার্থী অর্পিতা ঘোষকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ জেলায় দলের জেলা সভাপতি করেন। যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বিপ্লব মিত্র ঘনিষ্ঠ উত্তম ঘোষকে। সেখানকার দায়িত্বে আনা হয় অর্পিতা অনুগামী অম্বরীশ সরকারকে।
আবার প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্রের দ্বারা বহিষ্কৃত হরিরামপুরে তৃণমূলের লড়াকু নেতা শুভাশিস পালকে (সোনা) দলে ফিরিয়ে আনেন অর্পিতা। সেই সঙ্গে জেলা কমিটি থেকে ব্লক কমিটি সবেতেই বিপ্লব অনুগামীদের ছেঁটে ফেলা হয়েছে। এই মুহূর্তে কোনঠাসা হয়ে থাকলেও, তিনি অনুগামীদের আনুগত্য যাচাই করে নিয়ে বিজেপিতে যাওয়ার রাস্তা খোলা রাখছেন। এমনই জল্পনা তাই জোরদার হয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে।