দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন তরুণী। চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে। কিন্তু দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি, এক রোগের চিকিৎসা করতে এসে অন্য সংক্রমণের জেরে খোয়াতে হবে ডান হাত! এসএসকেএম-এর এই ঘটনায় অভিযোগের তির মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের দিকে।
নদিয়ার ১৯ বছরের মেয়ে তরুণী সুস্মিতা মণ্ডলের কিছু দিন আগে বিয়ে হয়েছে, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এলাকায়। সুস্মিতার পরিবার সূত্রের খবর, চলতি মাসের ৫ তারিখে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে ৬ তারিখ বিকেলে ভর্তি করা হয় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে। জানা যায়, নিউমোনিয়া হয়েছে তাঁর। অভিযোগ, তার পরেও দু'দিন কোনও চিকিৎসাই হয়নি তাঁর।
এর পরে আট তারিখ বিকেলে চিকিৎসকেরা দেখেন এবং স্যালাইন চালু করার ব্যবস্থা করেন। ডান হাতে করা হয় চ্যানেল। কিন্তু তার পর থেকেই শুরু হয় যন্ত্রণা। বারবার জানালেও হাসপাতালের নার্স ও চিকিৎসকরা কেউ গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ। উল্টে তাঁরা বলেন, চ্যানেল করলে ব্যথা হয়। কিন্তু সুস্মিতার ব্যথা সহ্যের সীমা ছাড়ায়। একসময়ে নীল হয়ে ওঠে হাত। যন্ত্রণায় অবশ হয়ে যায় রীতিমতো।
পরের দিন, ৯ তারিখ ওরকম অবস্থা দেখে সুস্মিতার ডান হাত থেকে চ্যানেল খুলে তা বাঁ হাতে করে দেওয়া হয়। অভিযোগ, ততক্ষণে ডানহাত বীভৎস ভাবে ফুলে উঠেছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, ভিতরে বড় কোনও সংক্রমণ বাসা বেঁধেছে। এই অবস্থায় দেখার পরে সন্ধেবেলা চিকিৎসকরা সুস্মিতার পরিবারের সদস্যদের ডেকে বলেন, তরুণীর হাত কেটে বাদ দিতে হবে।
এই কথা শুনেই রাগে-ক্ষোভে ফেটে পড়ে পরিবার। অভিযোগ তোলে, প্রথমেই বারবার করে ব্যথার কথা বলা সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। করলে এই অবস্থা হতো না। ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলেন তাঁরা। বেগতিক দেখে সুস্মিতাকে কলকাতার এসএসকেএমে রেফার করে দেন মুর্শিদাবাদের চিকিৎসকরা।
১০ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টায় এসএসকেএমে এনে ভর্তি করানো হয় সুস্মিতাকে। সন্ধেয় হাতের তালি চিরে বিষাক্ত রক্ত বার করেন চিকিৎসকরা। শুদ্ধ রক্ত সঞ্চালনেরও চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনও উন্নতি হয়নি বলেই জানা গেছে। ১২ তারিখ ফের অস্ত্রোপচার করেন তাঁরা। তাতেও সংক্রমণ কমেনি, বরং তা বিপজ্জনক ভাবে রক্তে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। তখনই তরুণীর প্রাণ বাঁচাতে তাঁর পচন ধরা ডান হাতের কনুইয়ের নীচের অংশ কেটে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। বাধ্য হয়ে অনুমতি দেন পরিবারের সদস্যরাও।
শেষমেশ ১৭ জানুয়ারি অস্ত্রোপচার করে কেটে বাদ দেওয়া হয় সুস্মিতার ডানহাত। আপাতত এসএসকেএমের ভিক্টোরিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন সুস্মিতা। পরিবারের এক আত্মীয় শঙ্কর দাস বলেন, "মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের বিরুদ্ধে আমরা রাজ্য হেল্থ রেগুলেটরি কমিশন, স্বাস্থ্যভবন ও মেডিক্যাল কাউন্সিলে অভিযোগ জানিয়েছি। ভুল চিকিৎসার কারণে যে এত বড় বিপর্যয় হয়ে গেল, তার ক্ষতিপূরণ চাইছি। সেই সঙ্গেই চাইছি অভিযুক্ত চিকিৎসা ও চিকিৎসাকর্মীদের শাস্তি হোক।"
সুস্মিতার মা-ও বলেন, "যাদের ভুলে আমার ১৮ বছরের মেয়েটা ডান হাত হারিয়ে পঙ্গু হয়ে গেল, তাদের শাস্তি চাইছি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমার অনুরোধ, আমার মেয়েকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করুন।"