মৃন্ময় পান, বাঁকুড়া: একজন বিজেপির প্রার্থী। অন্যজন তৃণমূলের। কাজেই আদর্শের লড়াইতো আছেই। এ বার সেই লড়াই, টক্কর পৌঁছে গেল একেবারে তাঁদের গৃহকোণেও।
আসলে ব্যাপারটা এইরকম। একাধিক মামলায় নাম জড়ানোয় আদালতের নির্দেশে নিজের নির্বাচনী এলাকায় পা রাখতে পারছেন না বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ। তাঁর হয়ে প্রচারের প্রায় পুরো দায়িত্বই নিজের কাঁধে তুলে নিছেন ঘরণী সুজাতা খাঁ। আগে কোনও দিন রাজনীতির ময়দানে পা না রাখলেও স্বামীর হয়ে প্রচারের ময়দানে কিন্তু ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলে দিয়েছেন তিনি। কখনও কীর্তনের দলে করতাল বাজিয়ে, কখনও ভোটারদের সঙ্গে একেবারে অন্তরঙ্গ হয়ে মিশে গিয়ে, কখনও আবার চড়া মেজাজে অ্যাম্বুল্যান্সের গায়ে স্বামীর নাম ঢেকে দেওয়া কাগজ ছিঁড়ে ফেলে মোটের উপর নিজের একটা পরিচয় তৈরি করে ফেলেছেন সুজাতা।
তুলনায় নতুন প্রীতিকণা। প্রীতিকণা বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শ্যামল সাঁতরার ঘরণী। এতদিন ঘরেই ছিলেন। মঙ্গলবারই প্রথম কোতুলপুরের মানুষ স্বামীর হয়ে প্রচার করতে দেখলেন তাঁকে। দলের নেতাদের শেখানো পথে মিছিলে হেঁটে, অনভ্যস্ত ভঙ্গিতে ভোট চাইলেন তিনি। তুলে ধরলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া উন্নয়নের তত্ত্ব। দাবি করলেন, এই বিশাল লোকসভার পুরোটা তাঁর স্বামীর একার পক্ষে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই সহধর্মিনীর ভূমিকায়।
আর তাতেই জোর চর্চা শুরু হয়ে গেছে মল্লভূমে। পুরোটাই কি দেখাদেখি?
প্রীতিকণার অবশ্য দাবি, “আমি কাউকে দেখে প্রচারে নামিনি। আমার স্বামীর পক্ষে এতবড় এলাকার সর্বত্র পৌঁছোনো সম্ভব নয়, তাই তাঁর স্ত্রী হিসেবে আমি তাঁর হয়ে প্রচার শুরু করেছি। দোলের দিনও আমি স্বামীর সঙ্গে বেরিয়েছিলাম। আবারও যাব প্রচারে।”
প্রীতিকণা যাই দাবি করুন, সৌমিত্র পত্নী কিন্তু বিঁধতে ছাড়লেন না। তিনিই পথ দেখিয়েছেন বলে দাবি করে সুজাতা বললেন, “মানুষ ঠিকই বুঝেছেন। খুব ভাল লাগছে ভেবে যে অল্পদিনেই আমি তৃণমূল কংগ্রেসের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছি। লোকে আমাকে রোল মডেল করছে। আইকন। কারণ লোকে রোলমডেলকেই তো নকল করে। যাকে তাকে তো করে না। তাই আমার দেখাদেখি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীর স্ত্রীকেও রাস্তায় নামতে হল।”
https://www.youtube.com/watch?v=P6_BpizjHkY&feature=youtu.be
আগামী কয়েক দিনে তপ্ত মল্লভূমে কোন ঘরণী ভোটারদের উপর বেশি প্রভাব ফেলেন, এখন সেটাই দেখার।