
শেষ আপডেট: 14 October 2019 10:42
১৫ বিঘার একটা ছোট চা বাগান রয়েছে ময়নাগুড়ির চাষি মনোজ রায়ের। শেড-ট্রি হিসেবে সেখানে বড় হওয়া শিরীষ, ঘোড়ানিম গাছগুলিকে বছর চারেক আগে কেটে ফেলেছিলেন। তার জায়গায় প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ করে বসিয়েছিলেন শিটং থেকে আনা সাতশোটি কমলালেবুর চারা। গতবছর প্রথম সে গাছগুলিতে উপচে পড়েছিল ফল। চা বাগানের সবুজে কমলার আঁকিবুকি দেখতে ভিড় করে এসেছিলেন বহু মানুষ।
সাধারণভাবে নভেম্বর মাসে লাস্ট ফ্লাশ এর পর থেকে চা বাগানে শুরু হয় লিন পিরিয়ড। এই সময় আর চা পাতা হয় না। ডিসেম্বর শুরুর পর বাগানে শুরু হয় চা গাছ ছেঁটে ফেলার কাজ। ফলে মার্চ মাস পর্যন্ত চা বাগান থেকে আয় হয় না তেমন। এই সময়ে বিকল্প আয়ের দিশা খুঁজতেই শেড-ট্রি হিসেবে কমলালেবুর চাষের ভাবনা মাথায় এসেছিল বলে জানিয়েছিলেন মনোজবাবু। সেই ভাবনাই এখন দিশা দেখাচ্ছে অন্যদেরও। ক্ষুদ্র চা চাষীদের সংগঠন ইতিমধ্যেই এই চা বাগানকে মডেল হিসেবে তুলে ধরেছে দেশে।
ওই চা বাগানের শ্রমিকরাও জানাচ্ছেন, আগে ডিসেম্বর মাস থেকে আর কাজ থাকত না। সংসার চলত না। এখন বাগানে কমলালেবু চাষ হওয়ায় সারা বছর কাজ পাচ্ছেন তাঁরা। টাকাও রোজগার হচ্ছে। আগে যেমন চা পাতা না উঠলে কী খাবেন, সেই চিন্তায় থাকতেন, এ বার আর তা নেই।
মনোজবাবু বলেন, “এ বার পাহাড়ে কমলার ফলন কম হয়েছে বলে শুনছি। কিন্তু আমার এখানে ফলন খারাপ হয়নি। আমার বাগানের কমলার স্বাদ ও গন্ধ ভুটানের কমলার চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। স্বাভাবিক ভাবেই একটু বেশি দাম আশা করছি। কিছু কমলা দিয়ে এ বার পুজোয় আগাম বাজার ধরেছি। কালীপুজো শেষ হতে হতে আরও ভাল ভাবে বাজার পাওয়া যাবে বলেই আশা রাখছি।”